Showing posts with label তন্দ্রা. Show all posts
Showing posts with label তন্দ্রা. Show all posts

Thursday, April 18, 2013

সাপ্তাহিক কচড়া (জগা-খিচুড়ী)




বৃহস্পতিবার, ১১ই এপ্রিল ২০১৩

গত সপ্তাহের শেষ দিন ছিল আমার জীবণের অন্যতম একটি সেরা দিনসেদিন আমি পেয়েছিলাম আমার গুরু, মামা, এমিনেমের ২৯৮ টি গানের সম্পূর্ণ কালেকশন। ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা ভাঙ্গাচোরা আধা ছাধা গান বা ৫০ টাকা দিয়া কিনা ডিভিডি ভার্সান না, একেবারে অরিজিনাল সাউন্ডট্রেক ... নতুন অনেক কিছু আবিষ্কার করলাম সেদিন। যেমন প্রতিটি এলভ্যামের শুরুতে এবং শেষে এমিনেমের ৩০-৬০ সেকেন্ডের কিছু ইন্ট্রডাকটোরি ক্লিপ রয়েছে, যেখানে সে আর তার গ্রুপের সদস্যরা এলভ্যাম সম্পর্কে কিছু কথা বলে থাকে। যা একথায় অসাধারণ। তার when the music stops, Evil deeds, Music box, No apologies, Business গানগুলাই সপ্তাহ জুড়ে শুনেছি। বাকিগুলো এখনো শোনাই হয় নাই। তাই জানি না ওগুলা না জানি আরো কত ভালো হবে !!!
...................................................................................................
শুক্রবার, ১২ই এপ্রিল ২০১৩


তন্দ্রার পোট্রেট আকা শুরু করেছিলাম গত সপ্তাহে সোম কি বুধবারে, আর তার কাজ ৯০ ভাগ শেষ করেছি শুক্রবারে। এখন শুধু তার চোখগুলো আঁকা বাকিপোট্রেট এর কনসেপ্ট সম্পূর্ণ কল্পনা থেকে করা। পোট্ট্রেটে সে ফুলের ঝুড়ি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে হাস্যজ্জল মুখে। চুলগুলো এলোমেলো... একেবারেই আইনেস্টাইনের মতো... তবে চোখগুলো আঁকতে পারছি না আমি... যতবারই আঁকতে যাই বার বার আমার চোখ দুটোই ভিজে যায় অজানা এক কারণে। তাই চোখ দুটো আঁকার কাজ এখন আপাতত রেখে দিয়েছি ভবিষৎ এর জন্য। যেদিন আমার চোখের এই ব্যারাম ভালো হবে সেদিন বাকি ১০ ভাগ কাজ শেষ করবো।
...................................................................................................
শনিবার, ১৩ই এপ্রিল ২০১৩

সপ্তাহের প্রথম দিনটি শুরু হয়েছিল খারাপ লাগার মতো একটা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে, অফিসে বসে কাজ করছিলাম... হঠাৎ করে কোনো একটা সোর্স থেকে তন্দ্রার বিয়ের একটা ছবি দেখে চমকে উঠলাম। দেখার পর আমি আর সেদিন অফিস করতে পারিনি। মাথাটা একদম শূন্য হয়ে গিয়েছিল কয়েক ঘন্টার জন্য। ঠিকভাবে রাস্তা দিয়ে হাটতে পারছিলাম না। কিভাবে যে আমি বাসায় এসেছিলাম সেদিন তা ও হয়তো আমি ঠিকভাবে বলতে পারবো না। আমি ঠিক তখনই বুঝেছিলাম, আমি হেরে গিয়েছে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার কাছে। সেই সমাজ ব্যবস্থার কাছে, যেখানে একজন মানুষের রক্ত আরকেজনের মতো হলেও তারা একে অপরের থেকে আলাদা। আলাদা জাতি, আলাদা গোষ্ঠির এক একটি প্রতিনিধি। নিজেকে সেদিন খুব নগন্য মনে হচ্ছিল, ঠিক যেন দুই টাকার ময়লা নোটের মতো... যার দাম আমাদের কাছে থেকেও নেই।
.............................................................................................................................
ভাই থামেন
http://www.somewhereinblog.net/blog/orijit/29818487


কিছু কিছু কথা মুখে বলতে হয় না, দেখায়া দিতে হয়। যাদের মাথায় গোবর আছে তাঁরা ঐ জিনিস দেখার পর না বুঝলেও যাদের মাথায় সামান্য পরিমাণ গরুর মুত আছে, তাঁরা হয়তো কিছুটা বুঝবে। আমার আজকের অ আ তাদের জন্যই। আরো বিশেষ ভাবে বলতে গেলে আমার পরিচিতজনদের জন্য। আমি জানি আমার বেশীরভার পরিচিতজনেরা আমাকে খুব একটা ভালো চোখে দেখে না। কারণ আমার মুখ অনেক পাতলা, বিশেষ করে কখন কোথায় কি বলা উচিত আর কি বলা উচিত না, তারা তা নিয়ে সব সময়ই একটা আতঙ্কের ভিতরে থাকে। তাই আমি তাদের আতংকিত না করার জন্য তাদের কোনো কিছুতেই হস্তক্ষেপ করি না অনেকদিন ধরেই। কি দরকার শুধু শুধু আগ বাড়িয়ে বলতে যাওয়ার !! তাই আমিও আমার মতো থাকি, আর তারাও তাদের মতো থাকে।

আমার খারাপ লাগে না, যখন দেখি মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্ররা আন্দোলন করছে ধর্মের দোহায় দিয়ে। আমার খারাপ লাগে না, যখন দেখি কোনো বয়ষ্ক ব্যাক্তি ইন্টারনেট নামক জিনিসটাকে নিয়ে না জেনে শুনে খারাপ খারাপ মন্তব্য করছে। আমার খারাপ লাগে না, যখন দেখি চোখ বন্ধ করে মানুষরা দলে দলে যোগ দিচ্ছে নাস্তিকদের ফাঁসির দাবিতে। খারাপ লাগে না, কারণ তারা জানে না নেট কি, ব্লগ কি, ব্লগার কি, তারা এসব জানার সুযোগও কখনো পাইনি। তাই তাদের কোনো কিছুতে আমার খারাপ লাগে না। বরং করুণা হয় এই ভেবে যে, তাঁরা কতটা সহজ সরল যে ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে তাদেরকে যে কেউ ব্যবহার করতে পারবে। এসব ভেবে আমি তখন আর মন খারাপ করি না।

খারাপ লাগে তখন, যখন দেখি আমার পরিচিত শিক্ষিত মানুষরা সপ্তাহে এক বেলা, বা ৩-৪ সপ্তাহে একবেলা নামাজ কায়েম করে নাস্তিক, আস্তিক, ধর্মের অবমাননা নিয়ে বয়ান ছাড়ে। খারাপ লাগে তখন, যখন দেখি I-phone, yo-yo, টাইপের পার্টি সার্টি টাইপের পরিচিতরা নাস্তিকদের (ওঁদের ভাষ্যমতে) লিষ্ট করা ছবিতে ফাঁসীর দাবিতে ফেইসবুকে ছবি পোষ্ট করে। তখন তাদের বলতে ইচ্ছে করে এতো বছরের এই শিক্ষাই কি পেয়েছে তাঁরা তাদের পরিবারের কাছ থেকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে, এবং তাদের ধর্মের কাছ থেকে, যে না জেনে শুনে নাস্তিক বলার শাস্তি কি হতে পারে হাশরের ময়দানে তা তাদের জানা নেই !! আজ অত্যাধুনিক ফ্যাশ্যান সচেতন খালেদা জিয়াও ঢালাওভাবে নাস্তিক বলছে আর খাদ্য, বিস্কুট প্রেরণ করছে আন্দোলন কারীদের। তা অবশ্যই প্রসংশনীয়। কিন্তু যাদেরকে প্রেরণ করেছে, তাদের তো একটি দাবী হচ্ছে নারীর অধীনে তাঁরা কোন শাসন মানবে না। তাহলে না মানলে নারী নেতৃতের পরিচালিত দলের কাছ থেকে সাহায্য নেওয়ার পিছনে লজিকটা কোথায় !! আজ এরশাদ চাঁচা পল্টি মেরে খাওয়ার পানি সাপ্লাই দিচ্ছে, দুইদিন আগে দিয়েছিল শাহবাগীদের। কি উদ্দ্যেশ্য তা কি দেশের মানুষ কি কিছুই বুঝে না, তাঁরা কি এতোই বোকা !! আমার তা মনে হয় না।

আমার ধর্ম নিয়ে কখনোই চুলকানি ছিলো না। আমার 'মালাউন' বিরোধী পরিচিতরা (বলতে গেলে সবাই... আমার মা-বাবা থেকে একেবারে কাছের বন্ধুরা পর্যন্ত) যখন অন্য ধর্মের রীতি নীতি নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, হাসা-হাসি করতো তখন আমি চুপ করে থাকতাম। তাঁরা ভাবতো হয়তো আমার সর্ম্পক অন্য একটা ধর্মাবলম্বীর সাথে ছিল বোধহয় আমি কিছু বলি নাই। আমি তাদেরকে বলতে চাই আমার সর্ম্পক গত বছরই ভেঙ্গে গেছে। ছয় বছর আঠার মতো লেগে থাকার পর সে এখন তার নিজ ধর্মের একজনের সাথে বিয়ে করে ভালো আছে। আমি কি চাইলে পারি না তাকে এবং তার ধর্মের নামে সব জায়গায় সমলোচনা করতে ? আমার কি ভিতরে ভিতরে এগুলো চলে না ? চলে ঠিকই, কিন্তু আমি কখনো আংগুল তুলে কারো বিশ্বাসের উপর অযাযিত চর্চা করতে চাই না। আবার যখন ব্লগে দেখতাম ইসলাম কে নিয়ে সমলোচনা করা হচ্ছে, সেখানেও আমি চুপ থাকতাম। কখনোই আগ বাড়িয়ে ক্যাচাল করতে যাইনি আমি। কারণ এত বড় বড় বিষয় আমি আমার ১৩০০ গ্রামের মাথা দিয়ে যাচাই করে উল্টা পাল্টা বক্তব্য দেওয়াটা কে আমি বুদ্ধিমানের কাজ মনে করিনা। বরং বিচার বিশ্লেষণ করে তা নিজের ভিতরেই রাখাটাকেই আমার কাছে সমীচীন বলে আগেও মনে হয়েছিল, এখনো মনে হয়।

আমার পরিচিতরা বিশ্বাস করে আমি আওয়ামীলিগ ঘেষা। আমিও বলছি আমি আওয়ামী লীগ ঘেষা, তার প্রধান কারন হচ্ছে আমি বি.এন.পি কে দুই চোখে দেখতে পারি না। তবে একটা জিনিস বলে রাখা ভালো, আর তা হচ্ছে আমি আওয়ামী লীগকে পছন্দ করি আমার সুবিধার জন্য নয়, বরং আওয়ামী লীগ সামনের বার ক্ষমতায় আসলে আমার এবং আমার পরিবারের জন্যই সব থেকে বেশী ক্ষতি হবে। কেন ক্ষতি হবে এবং কিভাবে ক্ষতি হবে এটা আমার পরিচিতরা খুবই ভালো ভাবে জানে। তাই আর তা বলতে চাচ্ছি না। তবে হাফ লেডিস বি.এন.পি কে কখনোই সাপোর্ট করবো না।


.........................................................................................................
শুক্রবার-রবিবার-মঙ্গলবার
এক সংক্ষিপ্ত প্রেমের গল্প

লাইফে ৫ম তম মেয়ে আমার জীবণে আসল এই সপ্তাহে। তবে সবাইকে গার্লফ্রেন্ডের কাতারে ফেলানোটা উচিত হবে না। এদের মধ্যে থেকে বড়জোড় তিনজনকে আপনারা চাইলে গার্লফ্রেন্ড এর কাতারে ফালাতে চাইলেও ফালাতে পারেন। সর্বশেষ যে এই সপ্তাহে এসেছিল তার সাথে আমার সর্ম্পক ছিল তিনদিনেরপ্রথমদিন চ্যাটে পরিচয়, দ্বিতীয় দিন ফোনে কথা- তুই তুকারি সর্ম্পক- বিয়ের প্ল্যান, বিয়ের পর কক্সবাজার না রাঙ্গামাটি তা নিয়ে খুনসুটি, তৃতীয় দিনে কম খরচে কথা বলার জন্য একই ক্যারিয়ার সিমে কথোপকথন এবং সবিশেষে সর্ম্পকের সমাপ্তি ঘোষণা।

মেয়েটার প্রথমদিনের প্রথমভাগের চ্যাটে আমাকে লিখেছিল

excuse me!
r u bg?
আমি তার এক ঘন্টা পর রিপ্লাই দিয়েছিলাম,
nope... Today I am free, free like a bird ... you can knock me anytime you want...
জবাবে লিখেছিল সে,
tht's nice!!!!
u r free lyk bird,
thn fly freely in the sky,fly away frm all the cruel realities n,,,,,,,,,,,,enjoy urself.
nywy,i did go through ur prfle n i jst love it.
u r diffirent frm others,n smtimes spcl one too..

আমাকে প্রথমে সে বলেছিল আমি স্পেশাল, তারপর চ্যাটের একটা পর্যায়ে এসে সে বলল আমি নাকি ‘Extra Ordinary’তারপর চ্যাটের শেষাংশে এসে সে বলল,
i think u r sick in mentally.

তারপর সে নিজেই পাখি হয়ে উড়ে গেল আমার আকাশ থেকে, ঠিক যেভাবে এসে বসেছিল আমার জীবণের বারান্দায়। যাক উড়ে যাক সব পাখ-পাখালি, আমি একা আছি ভালই আছি। কোনো প্রকার উটকো ঝামেলা পোহানোর ইচ্ছাই আমার এখন আর নাই।
…………………………………………………………………………………………………………………………………………………
Facebook Addiction

ফেইসবুকে আবিষ্কার করলাম, আমার এক পরিচিত মারাত্মক ভাবে আসক্ত হয়ে গিয়েছে ফেইসবুকের সাথে। প্রিতিদিনই ভাব গম্ভীর কিছু না কিছু পোষ্ট দিচ্ছে। ভাব গম্ভীর বিষয় নিয়ে আমি নিজেও বেশ পছন্দ করি। তাই তার করা বেশিরভাগ পোষ্টই আমার ভালো লাগে। ছেলেটাকেও ভালো লাগে আমার। তবে সমস্যা হচ্ছে অন্য যায়গায়। আর তা হচ্ছে, সে মারাত্মক ভাবে ফেইসবুক মেনিয়া তে ভুগছে। আমি তা ধরতে পেরেছি গতকাল। গতকাল ওর করা একটা পোষ্ট আমার ভালো লেগেছিল, কিন্তু শেষের দিকে এসে আর ভালো লাগলো না। তাই আর লাইক দেইনি। তবে তার পোষ্টের একটা কমেন্ট আমার বেশ পছন্দ হয়ছিল বলে লাইক দিয়েছিলাম। তারপর সকালে উঠে আবিষ্কার করলাম সে আমার পোষ্ট করা অনেকগুলো পোষ্টের কমেন্টে লাইক দিয়েছে। আমি বুঝতে পারলাম সে আমার উপর হয়তো কিছুটা বিরক্ত হয়েছে বা রাগ করেছে। আমারও একটু খারাপ লেগেছে কিন্ত আমার যদি ওর পোষ্ট পছন্দ না হয় তাহলে কেন আমি লাইক দিব ? আর ওই পোষ্টের কোনো কমেন্ট যদি আমার পছন্দ হয়, তাহলে কেন আমি ঐ কমেন্টে লাইক দিবো না ? আর লাইক জিনিসটাই বা এতো কি মূল্য রাখে আমি জানি না।

লাইকের পিছনে তার বাসনা দেইক্ষা কষ্ট পাইলাম কিছুটা।
.........................................................................................................


আমি গত ৬ বছর ধরে আমার নিজেস্ব পিসি ছাড়া আছি। তারপরও জুন মাসে চালু করতে যাচ্ছি সর্ম্পূণ নিজের একক প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা একটা পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট। সাইটের জন্য অলরেডি ৬৭ জিবি নেটে আপলোড করা হয়ে গিয়েছে। আশা করি মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ২৫০-৩০০ জিবির কনটেন্ট রেডি করা হয়ে যাবে। তারপর আসবে জুন মাসের সেই বহূ প্রতিক্ষিত দিনটি... যার জন্য আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল দীর্ঘ সাড়ে চারটি বছর!!!
 .........................................................................................................
.........................................................................................................

Tuesday, April 9, 2013

হরতালের দিনগুলোতে একজন সঙ্গী আবশ্যক


হরতালের দিনগুলোতে মেরূল বাড্ডা হইতে কাওরানবাজার সোনারগাঁও মোড় পর্যন্ত সকাল-সন্ধ্যা, আসা-যাওয়ার জন্য একজন সঙ্গী আবশ্যক। সঙ্গীর বয়স, বর্ণ, এবং লিঙ্গ কোন মূখ্য বিষয় নয়, তাই যে কেউ যোগাযোগ করতে পারেন। তবে কাওরানবাজার এলাকার চাকুরিজীবিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। রামপুরা, বনশ্রী এলাকার ব্যক্তিবর্গও চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন।


উল্ল্যেখ্য বিষয়সমূহঃ
১। আসা যাওয়ার ভাড়া ভাগাভাগি করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে রিকশা দিয়ে আসা যাওয়া করলে ৭০ টাকা এর মতো লাগে, এবং সি.এন.জি দিয়ে আসলে ১০০ টাকার মতো লাগে, অর্থাৎ আগ্রহী ব্যাক্তিকে ৩৫ বা ৫০ টাকার মতো ভাড়া দেওয়া লাগতে পারে।

২। হরতাল ব্যাতিত দিনগুলিতে নিজ নিজ উপায়ে আসা যাওয়া করতে হবে।
৩। একসাথে আসতে হলে, একসাথে যেতেই হবে এরকম কোন বিধিনিষেধ নেই। আমার অফিস ৯ টা থেকে, তাই ৮.২০ কি ৮.৩০ হচ্ছে যাওয়ার সময়। আর আসার সময় হচ্ছে   বিকেল ৫ টা থেকে ৭ টার মধ্যে যেকোন সময়।
৪। শুক্রবার আমার অফিস বন্ধ, তাই শুক্রবার অফ ডে হিসেবে বিবেচিত হবে।


আগ্রহী ব্যক্তিগণ যোগাযোগ করতে পারেন নিন্মোক্ত ফেইসবুক লিঙ্কে মেসেজ পাঠিয়ে।

লিনক:
http://www.facebook.com/Sabbirahmed069
ইমেলঃ trivokal@gmail.com

বিঃদ্রঃ গত ৩০ দিনে ২০ দিনের মতো সি.এন.জি দিয়ে আসা যাওয়া করতে করতে আমার এখন বেহাল অবস্থা। তাই আগ্রহী ব্যক্তিগণ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিলে খুশী হবো। খুব প্যারার মইধ্যে আছি।

Thursday, March 14, 2013

আপনি কি জানেন আপনার জন্মের সময় আপনি কত তম মানুষ ছিলেন ?

জটিল একটা জিনিসের সন্ধান পাইলুম মাত্র... আপনি যদি জানতে চান আপনার জন্মের সময় আপনি কত তম মানুষ ছিলেন আর কতজন তখন জীবিত ছিল... তাহলে নিচের লিঙ্ক থেকে ঘুরে আসতে পারেন।।

http://www.bbc.co.uk/news/world-15391515

আমি ছিলাম 5,295,414,363 তম মানূষ !!!

এখন আমাকে বলেন আপনি কত তম ?

Saturday, February 2, 2013

খোলা চিঠি ; প্রাপক আমার হইলেও হতে পারত শালা বাবু 'রাজু বকসী'

প্রিয়তমেষু রাজু ওরফে রাজা,
বদনারও যে নাম থাকে তা আগে কখনো লক্ষ্য করি নাই। আজকে করলাম। বোনের বাসায় দুইটা বাথরুম আছে। একটায় বদনা আছে, আরেকটায় নাই। যেটায় আছে ঐটার বদনার নাম হইলো গিয়া 'রাজা '!! বিশ্বাস হচ্ছে না? না হউয়ারই কথা। 'সাগর ' নামে কোন বদনা থাকলে সেটা আমার কাছে অবিশ্বাস্যই ঠেকাবে। যাই হোক আমি তোমাকে ঐ ভাঙ্গা বদনার ছবি তুলে পাঠাবো। হয়তোবা এতে তোমার কিছু যায় আসবে না, কিন্তু আমার আসবে। আমি অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় নিয়েও মাথা ঘামাই, অযথাই। একটা সময় ছিল যখন একটা মেয়ের পা দিয়ে মাড়িয়ে যাওয়া ধুলোও সংরক্ষণ করার জন্য মন আঁকুপাঁকু করতো। ওই সময়ের ওই দিনগুলোতে ওই মেয়েটির থেকে পাওয়া বা কুড়িয়ে নেওয়া কিছু জিনিসের ফিরিস্তি দিলে তুমি হয়তোবা কিছুটা আচঁ করতে পারবা। আমার একটা বাক্স আছে, ঐটাতে আমি ঐ মেয়েটার থেকে পাওয়া (বিশেষ করে ব্যাবহার করে ফেলে দেওয়ার মতো জিনিসপত্র) জিনিসপত্র রাখি। বিভিন্ন বদনার মতো আমার অই বাক্সটারও একটা নাম আছে, 'তন্দ্রা বিলাস '। ঐ বাক্সটায় ভাঙ্গা চুলের ক্লিপ থেকে শুরু করে হাতের নখ পর্যন্ত আছে। ঐ মেয়েটার খেয়ে বেচেঁ যাওয়া পপকর্ণ সুন্দর করে প্যাকেট করা আছে। গত চারবছরে পপকর্ণ গুলো একেবারে চিপসে কালচে দাগ পরে গেছে। একটা টুরিস্ট চকলেটের খালি প্যাকেট টিস্যু দিয়ে পেচিয়ে রাখা আছে। একবার সে আমাকে পেভিসন ঔষুধ কিনে দিয়েছিল। সেটা আমি ব্যাবহার না করে রেখে দিয়েছিলাম বাক্সটিতে। আমার ওয়ারিদ নাম্বারটা ও কিনে দিয়েছিল, অই প্যাকেটাও আছে ওখানে। একটা আংটির ছোট বাক্স আছে ওখানে। ওটাতে আংটি না থাকলেও একটা ভাঙ্গা মাথার ক্লিপ, একটা ক্লোরমিন্টের খালি প্যাকেট, একটা দলা মোচড় হয়ে যাওয়া টিস্যু, একটা চুল, আর একটা আধ খাওয়া সিগেরেটের টুকরো আছে। সিগেরেট টা সে আমার জন্মদিন উপলক্ষে খেয়েছিল। একটা প্যাকেটে ২৩ টা স্ট্র রাখা আছে যা দিয়ে সে একসময় কোল্ডড্রিংস্ক খেয়েছিল। একদিনে না অনেক দিন লাগিয়ে খেয়ে থাকা স্ট্র...আর আছে অনেক কাগজে বানানো নৌকা, বাক্স আর রং বেরঙ্গের প্লেন...আরো অনেক কিছুই আছে যা তোমাদের ভাষায় হয়তো অর্থহীন ছাগলামি, কিন্তু কারো কারো কাছে ওগুলোর আলাদা একটা অর্থ আছে। যে অর্থ হয়তো একটা টোকাইকে ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে পাওয়া মানুষের পরিত্যক্ত জিনিস খুজে পাওয়ার আনন্দ দিয়ে থাকে। যে আনন্দের সিকি ভাগও হয়তোবা তোমরা কখনো বুঝতে পারবা না।

৫ বছর আগে যখন তোমাদের আর আমাদের পরিবারের সফল প্রচেষ্টায় আমার আর তন্দ্রার মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করানো হয় তখন জীবনে প্রথমবারের মতো আমি একটা বড় সর ধাক্কা খেয়েছিলাম। রাতে একা একা কথা বলতাম, হাসতাম, কাদঁতাম... একসময় ঘুমিয়ে পরতাম... মাকে তখন খুব ভয় পেতাম তাই জোড়ে কান্না করতে পারতাম না।বালিসে মুখ গুজে নিশ্বাস বন্ধ করে নিঃশব্দে কান্না করার ক্ষুদ্র অপচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলাম অনেকদিন ধরে... আমার বাক্সটার নিচের দিকে একটা ফাইল আছে। ফাইলে আমি তন্দ্রার মতো দেখতে মানুষের ছবির পেপার কাটিং রাখতাম। ওখানে ছেলেদেরও কিছু ছবি আছে। একদিন পেপারে দেখলাম একটা মেয়ের ছবি দিয়েছে। দুই বোনের ছবি। বড় বোন বসে আছে হাস্যজ্জ্বল মুখে , আর তার পাশে ছোট বোন দাড়িয়ে আছে। বড় বোনকে দেখে আমার চোখ পেপারে আটকিয়ে গেয়েছিল। পাশের ক্যাপশনে লেখা ছিল, 'মিথিলা বাচতে চায় '। পেপারটা সযত্নে রেখে দিয়েছিলাম আমার ড্রয়ারে। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পরলে ড্রয়ার থেকে বের করে বালিশের তলায় গুঁজে রাখতাম। রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে তা বের করে মোবাইলের হলুদ আলোতে ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকতাম। একসময় লেখা গুলো ঝাপসা হয়ে আসতো। ঝাপসা লেখা গুলোকে মনে হতো 'তন্দ্রা বাঁচতে চায় ' আর মনে হতো ক্যান্সারটা ঠিক মিথিলার নয় ক্যান্সারটা হয়েছে তন্দ্রার...

পেপারে মেয়েটার বাবার নাম্বার দেওয়া ছিল। আমি প্রায়শই ফোন করে জিজ্ঞাসা করতাম মিথিলার কি খবর? উনি কখনো বলতেন ভালো, আর কখনো ক্লান্ত স্বরেই বলতেন ভালো। আমি কখনোই উনাকে সাহায্য করতে পারিনি, উল্টো মাঝে মাঝে ফোন করে বিরক্তই করতাম বলে মনে হয়। কিন্তু আমি একটা অসম্ভব টান অনুভব করতাম। তাই যেদিন থেকে শুনলাম অবস্থা অবনতির দিকে, আমি ফোন করা বন্ধ করে দিয়েছিলাম।কারণ আমি বিশ্বাস করি সে আজও বেচেঁ আছে। আমি বিশ্বাস করি, ভগবান তার সবকিছু কেড়ে নিলেও তার হাসিটুকু কেড়ে নিতে পারেনি। সেই ক্ষমতা ভগবানের নেই বলেই আমার বিশ্বাস। আমি আজও যখন তার হাস্যজ্জ্বল ছবিটির দিকে তাকিয়ে থাকি আমার ভগবানের প্রতি ঘৃণা জন্মায়। আমার ঘৃণা জন্মায় ধর্মের প্রতি। আর আমার ঘৃণা জন্মায় নিজের প্রতি।

আমি তন্দ্রাকে কিছুই দিতে পারিনি, শুধু একদিন রাস্তায় সকলের সামনে একটা থাপ্পড় ছাড়া। সে আমাকে তবু ছেড়ে যায়নি তখন, ধরে রেখে ছিল বাচ্চাদের মতো। আমার কাছ থেকে একটা চিঠি পাবার আশায় প্রতি রাতে বায়না ধরতো। তবুও আমি লিখবো লিখবো করে মাস কাটিয়ে দিতাম। তার পাঠানো বেশিরভাগ চিঠির একটা অংশের লেখা অস্পষ্ট থাকতো। কলমের কালি ছাপিয়ে বুঝতে পারতাম সেগুলো ছিল তার কান্না মিশ্রিত লেখা। আমি তবুও লিখতাম না ... কারণ আমি জানতাম বাচ্চাদের সব আবদার মিটাতে নেই বা জানতাম সে আমাকে ছেড়ে কখনোই যেতে পারবে না। আজ হয়তোবা সে আর বাচ্চা নেই, তার বয়স হয়েছে ২৪ আর আমার ২২। ৬ বছর পর এসে মনে হচ্ছে সে আসলেই আমার থেকে ২ বছরের বড় ছিল, যে বিষয়টা কখনোই আমার মাথায় কাজ করতো না।আমি তাকে প্রায়শই বলতাম, "বিয়ার পর তোরে আমি মুসলমান বানায়া নাম দিমু হাজেরা খাতুন, বা জরিনা বেগম। " সে কিছু না বলে ফিক করে হেসে দিত। অই ভেবলা মার্কা হাসির শব্দ হয়তোবা আমি আর কখনোই শুনতে পারবো না। পারবো না কারণ তা শুনতে গেলে হয়তোবা তোমাদের জাত চলে যাবে। সমাজের লোকেরা ছি ছি করবে। তোমার ছোট বোনের আর হয়তোবা বিয়ে হবে না। তোমার বাবার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার হয়তো ধুলোয় মিশে যাবে। তার বদলে একজন সাব্বির আহমেদ বা তন্দ্রা বকসীর ফকিরা ভালোবাসা -বাসির কোরবানি দেওয়াই উওম। যা হয়তো তন্দ্রা বকসী মুখ বুজে মেনে নিলেও আমি হয়তোবা মেনে নিব না।

আমি হলাম হোমিওপ্যাথিক ওষুধের মতো। হোমিওপ্যাথি ঔষুধ যে এলাপ্যাথিক ঔষুধের বিপরীত নীতিতে কাজ করে তা কি জানা আছে তোমার? ধরো একটা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ ভেঙ্গে যদি আমরা অর্ধেকটা খাই তাহলে তার কার্যকারীতা আমরা অর্ধেকই পাবো, কিন্তু হোমিওপ্যাথিতে তা হচ্ছে উল্টো। হোমিওপ্যাথিতে ঔষুধ যত বেশীবার তরলীকরণ করা হবে, ওই ডোজের পাওয়ার ততো বেশী হবে। হোমিওপ্যাথির অন্যতম উপকরণ হচ্ছে তুঝা। এক চিমটি উপকরণ নিয়ে হোমিওপ্যাথি ওষুধ তৈরি করা হয়; বারবার জলে বা স্পিরিটে দ্রবীভূত করে ঝাঁকিয়ে, তার থেকে দশভাগ নিয়ে আবার সেটাকে আরও তরল করে তারপর আবার…আবারও…এভাবে আরও দশবার, বিশবার করার পর যদি প্রথম পাত্রের পাওয়ারে জ্বরের মতো ছুটকা ফুটকা অসুখ ভালো হয় তাহলে সর্বশেষ পাত্রের ঔষুধ দিয়ে যক্ষার রোগ সারবে। আদৌ শেষ পাত্রে কোনো উপকরণ মাইক্রোস্কোপ দিয়ে খুজে পাওয়া যাবে কিনা তাতে অবশ্য আমার সন্দেহ আছে। যাইহোক শেষ বয়সে আমার হোমিওপ্যাথির দোকান দেওয়ার একটা ইচ্ছা অবশ্য আছে। নাম দিব 'তন্দ্রা হোমিওপ্যাথিক ঔষুধালয় ' এর নিচে লেখা থাকবে 'ড. সাব্বির আহমেদ ', আর তার নিচে লেখা থাকবে 'রোগী দেখার সময় : সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা, শুক্র -শনি বন্ধ'। শুধু রোগীদের দেখলেই তো চলবে না, নিজের স্বাস্থ্যের দিকেও তো খেয়াল রাখা দরকার। তাই শুক্র শনি বন্ধ। তো যা বলছিলাম, আমি হচ্ছি হোমিওপ্যাথিক ঔষুধের মতো। যতদিন যাচ্ছে তন্দ্রাহারা হয়ে যাচ্ছি। অবশ্য সবাই ভাবছে আমি স্বাভাবিকই আছি। আমার নিজেরও বেশিরভাগ সময় তা ই মনে হয়, আমি স্বাভাবিকই আছি। গত এক সপ্তাহ ধরে বোনের বাসায় আছি। একা থাকতে ভয় লাগে, তাই আছি আরকি। তাছাড়া প্রজেক্টের কাজ চলতেছে, জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১০ই ডিসেম্বর। বাসায় পিসি নাই, বোনের বাসার পিসিতে কাজ সারতেছি (তেছি, তেছ, গেছি, খাইলাম, দাইলাম টাইপের শব্দ ব্যাবহার করতেছি, যাতে মনের ভাব সঠিক ভাবে তোমার কাছে উপস্থাপন করবার পারি)। ১ তারিখে মানিকগঞ্জ যাইতে হবে প্রজেক্টের কাজে। ভাবছিলাম হাতের প্লাস্টার দেইক্ষা স্যারে কইবো, "থাক তোমার যাওয়ার দরকার নাই, গ্রুপের বাকি মেম্বারদের কে তোমার বিষয়টি বলে দেব। তারাই বাকিটা হ্যান্ডল করবে। ", ভাবছিলাম এই সুযোগে আমিও দেবদাস হউয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখবো। সমস্যা হইলো, স্যারেও এই ধরনের কথা বলে নাই, আর আমার ভিতরেও দেবদাসের কোন লক্ষণ দেখা যাইতেছে না। অনেক চেষ্টা করি মন খারাপ করে থাকার, তারপরও কিচ্ছু হচ্ছে না বাড়া। আমার এক বন্ধু আছে রিজভী যে তার স্বভাবসুলভ ফাইজলামির সুরে আমাকে কইলো সেদিন, "বাড়া, তোকে দেখে তো মনেই হচ্ছে না মা কালী তোর পাছায় ছ্যাঁকা দিয়েছে! একটু কান্নাকাটি কর বাড়া, পার্টি -সার্টি দে। গোলাপজলের আয়োজন করবি, তা না দাড়ি গোফ শান করে বসে আছিস।" আমি আসলেই স্বাভাবিক থাকি বেশিরভাগ সময়েই, ততক্ষণই যতক্ষণ কেউ না কেউ আমার পাশে থাকে। যখন ঘুমাতে যাই তখনই শুধু খুব খারাপ লাগে, ভিতরে একটা চাপ অনুভব করি। ঘুম আসতে চায় না, গলা ছেড়ে হেড়ে গলায় কাদতেঁ ইচ্ছে হয়, তাও পারি না। একসময় ঘুমিয়ে পরি ... ২৭ তারিখ পর্যন্ত প্রতিটা সকালে আমার ঘুম ভেঙ্গেছে আতঙ্কের সাথে। ধর মর করে উঠে বসতাম, বুক ধর ফর করতো খুব। বুঝতাম দুঃস্বপ্ন কারণে এই উঠে বসা, কিন্তু উঠার পর কি দেখেছিলাম তা মনে করতে পারতাম না। অনেকক্ষণ পর হঠাৎ করে মনে পরত, সাথে সাথেই শর্টনোট করে রাখতাম। গত দুইদিন ধরে তা আর হচ্ছে না, কারণ রাতে আর ঘুমাই না। ৫ টার দিকে ঘুমাতে যাই, আর উঠি বোনের চিল্লাচিল্লির আওয়াজে... জামাইয়ের সাথে নিত্যদিনের চিল্লাচিল্লি। তখন মনে হয়, না শালা ভালোই আছি। এই তন্দ্রা ছন্দ্রা চাঙ্গে উঠাইয়া নতুন উদ্দ্যমে যেগে উঠি। কিন্তু আমি জানি তা আমার দ্বারা সম্ভব না। এটা আমি যেমন জানি, তোমার দিদিও ঠিক তা ই জানে। ও প্রায়শই বলতো, "তোমার গুদ্দাটা অনেক বড়"। আমি বলেছিলাম গুদ্দা কি? ও বলল মানুষের যেই জায়গায় নাকি সাহস থাকে অই জায়গাটার নাম 'গুদ্দা '। (আমি কিন্তু ভাবছিলাম অশ্লীল কিছু)। সাহসের কথা বললে বলতে হবে আমার গুদ্দা আসলেই অনেক বড়। তা যে ঠিক কত বড়, তা হয়তোবা তুমি একদিন দেখতে পারবা । এখন দেখা যাক এই গুদ্দার কাজ ভালো কিছুতে লাগাতে পারি কিনা।

- ইতি বড় গুদ্দাওলা একজন ব্যর্থ প্রেমিক পুরুষ। (প্রেমিক পুরুষ লেখার পর মনে পড়ল, সাকিব খানের এই নামে একটা ছবি আছে। ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী। অপু বিশ্বাস আর রুমানা আছে। সময় পাইলে দেখবা কিন্তু।)

এমিনেম উপখ্যান :শেষ পর্ব

আমার হায়াত আর কতদিন আছে আমি জানি না। উপরে যদি সত্যিই কেউ থেকে থাকে উনি হয়তোবা জানেন। আমি অবশ্য কমসে কম ১০০০ বছর সুস্থভাবে বাঁচতে চাই। বেচেঁ থাকার এই প্রবল ইচ্ছাটা দিন দিন ব্যাঙ্কের সুদের মতো চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে। গত একমাস ধরে মৃত্যুভয় আমাকে প্রায় জেকে ধরেছে। তাই ভাবছি একদিন যেহেতু মরতেই হবে, মরার আগে আমার পচ্ছন্দের জিনিসগুলোর একটা লিস্ট করে রেখে যাই। আমার যদি একজনও কাছের মানুষ থেকে থাকে, সে হয়তো এই জিনিসগুলোর মধ্যেই আমাকে খুজে পাবে। এই তাগাদা নিয়েই প্রিয় গান, মুভি, বই এর এক একটি লিস্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমার বাসার পিসি আজ থেকে আরো ৪ বছর আগে নস্ট হয়েছে, তারপর আর পিসি কিনা হয়নি। ভার্সিটির গ্রেজুয়েশনও শেষ করলাম নিজস্ব একটা পিসি ছাড়া। টুক টাক এসাইনমেন্ট মোবাইলেই সেরে ফেলতাম, আর টার্ম পেপার, প্রোজেক্ট এর কাজ করেছি কখনো আমার বন্ধুর পিসিতে আবার কখনো বোনের বাসার পিসিতে বসে। আমার পছন্দের লিস্ট করার জন্য অন্যের কোন জিনিস ব্যবহার করতে মন টানছিল না, তাই মোবাইলে বসেই গত ১৫ দিন ধরে ৬ - ৭ টা লিস্ট বানাচ্ছি। এই লিস্টগুলোর মধ্যে আমার সব থেকে পছন্দের লিস্ট হচ্ছে আমার শোনা সাড়ে ছয় শো গানের মধ্য থেকে বাছাইকরা ২৫০ গানের লিস্টটা। এই গানের ডাউনলোড লিঙ্কগুলো মোবাইল দিয়ে খুজে বের করে আবার মোবাইলেই ওয়ার্ড ফাইলে এন্ট্রি করাটা হচ্ছে খুব ঝামেলার কাজ। তারপরও আমি ধর্য্য ধরে করে যাচ্ছি শুধুমাত্র আমার কিছু স্মৃতি রেখে যাবার আসায়।

যাইহোক আর প্যাচাল করতে চাচ্ছি না। আড়াইশো গানের লিস্ট এ আমি ইচ্ছা করেই আমার প্রিয় আর্টিস্ট এমিনেমের কোন মৌলিক গান রাখিনি। আমার কাছে মনে হয়েছিলো ওকে ঐ লিস্টে রাখাটা হবে ওর জন্য অপমানজনক :p। তাই এমিনেমের মৌলিক এবং সেরা ৮০ টি গান থেকে আমি বাছাই করে আমার পছন্দের ২০ টি গান নিয়ে আলাদা একটা লিস্ট করেছি। আজকের পোস্টটি তাই শুধুমাত্র এমিনেমের গান নিয়েই ...
.......................................................................
আমি কিন্তু র্‍্যাপ গান এমিনেমের ছাড়া শুনি না। এমিনেমের গান শুনি, কারণ আমি গল্প শুনতে পছন্দ করি। আপনি যদি এমিনেমের গান খুব মনোযোগ দিয়ে শুনেন তাহলে দেখবেন আপনি ওর জীবনের গল্পই শুনছেন ... এক একটি গান, এক একটি অধ্যায় ...তাই আপনি যদি এর আগে ওর গান পছন্দ নাও করে থাকেন বা না শুনে থাকেন, অন্তত ওর তিনটি গান লিরিকস্ সহ মনযোগ দিয়ে একবার হলেও শুনে দেখেন। আমার মনে হয় আমার মতো আপনারও ভুল ভেঙ্গে যাবে...
......................................................................
অস্কারের ইতিহাসে সর্বপ্রথম আর একমাত্র একাডেমী এওয়ার্ড পাওয়া র্‍্যাপ গান হচ্ছে Lose Yourself. ২০০৪ সালে Rolling Stone ম্যাগাজিন এই গানটাকে একবিংশ শতাব্দীর সেরা ৫০০ গানের মধ্যে ১১৬ তমতে নির্বাচিত করেছিল। সেই সময় ঔ লিস্টে এই গান ছাড়া আর মাত্র দুইটি গান ছিল পপ ধাচের! আমি গান নিয়ে অনেক ফ্যাক্টও আছে। তার মধ্যে একটা হচ্ছে, এই গান শুনে রাগবি খেলতে নামলে জিতার চান্স ৫০ ভাগ বেড়ে যায়, আর গাড়ি চলাকালীন সময়ে শুনলে এক্সিডেন্টের হাড় ৫০ ভাগ বেড়ে যায়! আমি বলবো, এই গান আপনার রক্তচাপ অবশ্যই বাড়িয়ে তুলবে। আমি ঠিক করেছে আমি ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢুকার ঠিক আগ মূহুর্তে এই গান শুনে ঢুকবো। আর আপনি চাইলে মারামারি বা পিডাপিডি করার আগ মূহুর্তে শুনলেও ভালো কাজে দিবে :p
1 Lose yourself - Eminem link: http://www.hiphoplegendshow.com/songs/Eminem Lose Yourself.mp3
....................................................................

আমি lose yourself থেকেও বেশী যে গানটি শুনি তা হচ্ছে Beautiful। যাদের সদ্য ব্রেক আপ হয়েছে তারা এই গান শুনে ষোলো কলা উসুল করতে পারবেন। আমি ব্রেক আপের পরবর্তীকালীন ঝড়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, আমি জানি এই সময়ের উপলব্ধি আপনি কখনোই কাউকে বুঝাতে পারবেন না। এই গানে এটাই বুঝাতে চেয়েছে এমিনেম। গানের শেষ লাইনগুলো এমিনেম তার ছোট মেয়েকে উদেশ্য করে লিখেছে...
2 Beautiful - Eminem
Link: http://ihiphop.com/featuredAudio/9557.mp3
.......................................................................

Lighters গানটা আপনি লিরিকস্ সহ শুনলেও এমিনেমের সাথে তাল মিলাতে পারবেন না। তাছাড়া এটা কোলাবোরেট গান, তাই Bruno Mars এর পার্ফরমেন্স এই গানের প্রাণ বলা চলে।
3 Lighters - Eminem
Link: Click This Link
.......................................................................

আমি সদ্য হাতের রগ কেটেছিলাম। আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি, আমি যদি কাটার আগে একবার হলেও Till I Collapse গানটা শুনতাম আমি হয়তো হাতের রগটা কাটতাম না।
4 Till I Collapse - Eminem
Link: Click This Link
.......................................................................

এই গানটা সবার জন্য না। বিশেষ করে যাদের রক্তে বিলিরুবিন বেশী তারা এই গানটা শুনে উপভোগ করতে পারবেন।
5 The Way I Am - Eminem
Link: Click This Link
.......................................................................
এমিনেমের ফানি দিকটা ভালো ভাবে ধরার জন্য এটা একটা পার্ফেক্ট গান। তাছাড়া এই গানে এমিনেমের ইগোও উপভোগ করার মতো। এই গানে এমিনেম boy bands, Limp Bizkit, Dick Cheney, Lynne Cheney, Moby এর মতো আর্টিস্টদের অসন্মানজনক মন্তব্য করেছে। যা শুনতে আপনার হয়তো খারাপ লাগবে না :p
6 Without Me - Eminem
Link: Click This Link
.......................................................................
যারা এমিনেমের গান শুনে না, তাদের কাছেও space bound ভালো লাগার কথা। দেখেন আপনার লাগে কিনা।
7 Space Bound - Eminem
Link: Click This Link
.......................................................................
এমিনেমের টপ লিস্টের ২ নাম্বার পজিশনে এই গানটা আছে।
8 Not Afraid - Eminem
Link: Click This Link
.......................................................................
এই গানটার পুরোটাই এমিনেম তার মেয়ের জন্য গেয়েছে। মিউজিক ভিডিও সহ দেখলে ভালো লাগা উচিত।
9 When I'm Gone - Eminem
Link: 003.audiopoisk.com/get-server/05091c0318001b0704081503000905100213030100050803505405500e0151020c5401575801095300095404070854010009/6647014/MTM1NjAwNzIwMjo0NzUxNzA3YzVhNzU0MTA2MTkwNTAyMTkwZjFkMDAwNTFjMDEwNTRmNmE1ZDVlNDY1ZTA0MDUwMjA1MGIxZTA4NzIwZjFlNDk0YjU3NWY1OTUyNWY1ZTVlNWI2ZTU4NTI1NjVmNTk1MjE5NWY1MzUxNTUxNzQzNGM6cHJvbmljaGtpbl9sZW9uaWRAbWFpbC5ydTo=/0/138663/MTE5LjMwLjQ1LjEwNzEzODY2M29zNmlmM2VvOW9zNmlmM2VvOQ==/Eminem - When I'm Gone (audiopoisk.com).mp3
.......................................................................
আমার মনে হয় এই গানের পরিচয় না দিলেও চলবে, অধিকাংশ ইয়াং জেনারেশন এই গানের প্রথমার্ধ রিংটোন হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে। এই গানের পার্ট টু ও আছে, অরিজিনাল ভার্সনের নিচেই তার লিংক দেওয়া আছে।
10 Love the way you Lie - Eminem
Link: http://dl.soundowl.com/4224.mp3
Instrument: http://ftp.luoo.net/radio/radio198/11.mp3
Part 2: Click This Link
.......................................................................
Mockingbird ও এমিনেম তার মেয়েকে নিয়ে গেয়েছে। উপভোগ্যের চেয়ে উপলব্ধি করার মতো গান। অবশ্যই লিরিকস্ সহ শুনবেন।
11 Mockingbird - Eminem
Link: Click This Link
Instrumental: Click This Link
.......................................................................
এমিনেমের টপ লিস্টেড ৬৯ তম গান এটি। কোলাবরেটেড গান এটি, 50cent, Dr. Dre এর পার্ফরমেন্স উপভোগ্য।
12 Crack a bottle - Eminem
Link: Click This Link
.......................................................................
গানের ইন্ট্রো অসাধারণ, Dido এর প্রশংসা না করে পারবেন না। এমিনেমের অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পিছনে তার প্রিয় আংকেল রুনির অবদান ছিল। আংকেল রুনির সুইসাইডের পর এমিনেম মুর্ষে পরেছিল, তাই আপনি এমিনেমের বাম হাতের উপরে 'Ronnie R.I.P ' ট্যাটু দেখতে পাবেন। এই গানে রুনিকে সে এক জায়গায় মেনশন করেছে। তাছাড়া আপনি ১.৫ ঘন্টার একটা মুভির পুড়াটাই ৬ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে উপভোগ করবেন এই গানে। সব মিলিয়ে গানটি অসাধারণ একটি Rap সং। আর এ জন্যই হয়তো Q. ম্যাগাজিন এই গানকে সর্বকালের সেরা ৩য় Rap গানের উপাধি দিয়েছে, আর Rolling Stone ম্যাগাজিন একবিংশ শতাব্দীর সেরা ৫০০ গানের মধ্যে ২৯০ স্থানে রেখেছে। আমি বলবো, আপনার একটি মুভি হলেও শোনা উচিত আর মুভির নাম হচ্ছে, Stan!
13 Stan - Eminem
Link: http://slimgarynadege.free.fr/.zic/Eminem - The Marshall Mathers Lp/03 - Eminem - Stan (Featuring Dido).mp3
.......................................................................
Bully কি জানেন তো? Bully হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে স্কুলে থাকাকালীন সময়ে আপনার পিছনে লেগে থাকতো। এই গান এমিনেমের বুলিকে নিয়ে, যে কিনা এই গান রিলিজ হউয়ার পরেও তাকে শান্তিতে থাকতে দেইনি!! মামলা ঠুকে দিয়েছিল তার নামে!
14 Bully - Eminem
Link: Click This Link
.......................................................................
এই গানে এমিনেমের দুঃখ গাথা ফুটে উঠেছে। আংকেল রুনিকে এখানেও পাবেন আপনারা।
15 Cleaning out my Closet - Eminem
Link: Click This Link
.......................................................................
গানটা ভালো :p। মেয়েদের সন্মানিত করা হয়েছে ভালোভাবে :p
16 Superman - Eminem
link: Click This Link - Eminem Superman.mp3
.......................................................................
নিচের গান গুলোতে বলার মতো কিছু খুজে পাচ্ছি না। আমার কাছে ভালো লেগেছে এতোটুকুই বলতে পারি...
17 No love (Feat. Lil Wayne) - Eminem
link: Click This Link).mp3
18 The real Slim Shady - Eminem
Link: Click This Link
19 Sing For The Moment - Eminem
Link: Click This Link
20 My Name Is - Eminem
link: Click This Link
21 Cinderella Man - Eminem
Link:
Click This Link
....................................................................
আজ এ পর্যন্তই, বেচেঁ থাকলে আবারও হয়তোবা আপনাদের বিরক্ত করবো ... :)
সে পর্যন্ত ভালো থাকবেন এবং অবশ্যই সুস্থ থাকবেন ... not lose yourself, be yourself.
.......................................
.......................................

ত্রিভকালের প্রান্তরে : 'গু' সমাচার ও একজন আবুলের গল্পের প্রারম্ভিকা

১৮ই নভেম্বর ২০১২, রাত তখন বাজছিল ৪ টার কাছাকাছি, হয়তোবা আরো বেশীও হতে পারে। আমি বাথরুমে যাবার আগে সময় দেখিনি, দেখা উচিত ছিল। তাহলে আপনাকে পার্ফেক্ট সময়টা বলতে পারতাম। সময় জানাটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিলো, কারণ তার কিছুক্ষণ পরেই আমি তন্দ্রাদের বাসার দূর্গন্ধময় বাথরুমে গিয়েছিলাম। আপনি হয়তো ভাবছেন, বাথরুমে যাওয়া নিয়ে কাহিনী করছি কেন আমি?

কাহিনী করছি কারণ সবার জীবনেই কাহিনী আছে, প্রত্যেকটা মূহূর্তের এক একটি কাহিনী। এক একটি ফ্রেম নিয়ে এক একটি কাহিনী। সিঙ্গেল ফ্রেমের কাহিনী যেমন আছে, মাল্টিফ্রেমেরও আছে। 'পাদ' মারা যদি সিঙ্গেল ফ্রেমের হয়ে থাকে তাহলে পায়খানা করা হচ্ছে মাল্টিফ্রেমের কাহিনী, প্রথমে প্যান্ট খুলো (বেল্ট থাকলে আগে বেল্ট, আর পাঞ্জাবি পড়া থাকলে আগে পাঞ্জাবি), তারপর বদনা হাতে নিয়ে পজিশন করে বসে পড়া। আমি আবার হাই কমোডে হাগতে পারি না, মানে ইংলিশ কমোডে। অনেকের যেমন উচ্চতা ভীতি, মাকড়শা ভীতি, তেলাপোকা ভীতি আছে , আমার তেমন হাই কমোড ভীতি আছে। মেডিকেল সায়েন্সে হয়তো এই সংক্রান্ত কোন ফোবিয়া থাকলেও থাকতে পারে, 'হাইকমোডভিয়া',বা 'কমডোফোবিয়া '। অসম্ভব কিছু না, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে 'Taboo ' বা ডিসকোভারি চ্যানেলে 'sqamish ' এর কোন না কোন পর্ব দেখে থাকলে আমার হাই কমোড ভীতি আপনার কাছে মোটেই আশ্চর্যজনক মনে হউয়ার কথা না। আমার হাইকমোডোভিয়া নিয়েও হয়তো কোন একদিন এপিসোড দেখাতে পারে। হয়তোবা আমাকেই শো এর হোস্ট পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলবে,

"ইনি হচ্ছে 'সাব্বির আহমেদ ', যিনি কিনা গত ২২ বছর ধরে 'হাইকমোডোভিয়া ' নামক অত্যন্ত জটিল এবং হাস্যকর রোগে ভুগছে। যার কারণে হাইকমোডে বসা মাত্র উনার পোন্দের গু মাথায় উঠে যায়, হার্ট বিট বেড়ে যায়, হাত পা ঘামাতে শুরু করে, ব্লাড পেশার বেড়ে যায় কিন্তু তারপরও ...তারপরও উনার পোন্দে দিয়ে গু বাহির হয় না ..."

..অসম্ভব কিছু না। এই ভীতি থাকার কারণে আপনি চাইলে আমাকে 'গ্রামের অশিক্ষিত চাড়াল' বলে গালিও দিতে পারেন, আমি কিছুই মনে করবো না। আপনি হয়তো রাজকীয় ভাবে বসে জ্ঞানী ভাব ধরে হাগতে বেশী পছন্দ করলেও করতে পারেন, তবে আমি করি না। 'জ্ঞানী ভাব ধরা' বলতেই মনে পড়লো একজনের কথা। আমাদের সাথে ঢাকার শাহজাদপুরে এক ছেলে থাকতো, নাম সাইফ। সে আবার সকালবেলার প্রাতরাশের পর খবরের কাগজটা নিয়ে হাইকমোডওলা বাথরুমে ঢুকতো, আর বের হতো পুরো খবরের কাগজ শেষ করে। এর মধ্যে আমরা মাঝেমধ্যে ভুলেও যেতাম, বাথরুমে কেউ কি আসলেই আছে, নাকি নাই! কারণ কোন সাড়াশব্দ পেতাম না, এমনকি পানি খরচের শব্দও না! প্রথমআলো পত্রিকায় নূন্যতম ২৪ পৃষ্ঠা থাকে (ক্রোড়পত্র বাদে)। একমিনিট করে প্রতি পৃষ্ঠা পরলেও ২৪ মিনিট লাগবে। এখন সাইফ যদি প্রথম দলা ২ মিনিটে আর শেষ দলা ৫ মিনিটে বের করে, তাহলে তার পায়খানা ৯ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়া উচিত। আর বাকি ১৫ মিনিটে সে যদি পানি খরচ না করে পেপার পড়েই যায়, তাহলে তার গুয্যদ্বারে লেগে থাকা গু শুকিয়ে যাওয়ার কথা। আর আপনি যদি সায়েন্সের স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন, আপনি নিশ্চয়ই জানেন গু কি কি উপাদান দিয়ে গঠিত হয়ে থাকে। তাই সাইফের গু যদি বাদামি রঙ্গের হয়ে থাকে তাহলে bile আর bilirubin এর কারণে mucus আস্তরণ তৌরি যাবে। যার ফলে গুয্যদ্বারে লেগে থাকা গু ১৫ মিনিটে নরম থেকে কঠিন হয়ে যাবে, আর তা তখন পানি দিয়ে হালকা ঘষা দিলেও উঠবে না। তখন যা করতে হবে তা হচ্ছে, পানি দিয়ে প্রথমে হালকা ভাবে ভিজিয়ে রাখতে হবে আর তার দুই মিনিট পর নরম হয়ে গেলে গুয্যদ্বার পরিষ্কার করতে হবে। আপনি হয়তো ভাবছেন আমি গু নিয়ে এতো ব্যস্ত হয়েছি কেন। ব্যস্ত হতে হয়, 'গু ' গু বলে আমি মোটেই তাকে ছোট চোখে দেখি না। মানুষের হাত দেখে যেমন ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে পামিস্টরা, আমি তেমন গু দেখে একটা মানুষ সম্পর্কে অনেক কিছুই বলতে পারি।আপনি হয়তো ভাবছেন আমি গুলপট্টি মারছি, বা ফাজলামো করছি। ...আমি মোটেও গুলপট্টি মারছি না, আবার ফাজলামোও করছি না।

মানুষের গু ছয় রকমের হয়ে থাকে। রকম না বলে ছয় রঙ্গের বলাটা মনে হয় ঠিক হবে। আর এসব রং খেয়াল খুশী মতো হয় না বরং নির্ভর করে মানুষের খাদ্যাভ্যাস, চাল -চলন, আর স্বাস্থ্যের উপর। অর্থাৎ একজন ব্যাক্তি কিভাবে জীবনযাপন করছে তা সহজেই ফুটে উঠে তার গুয়ের মাধ্যমে।

বেশিরভাগ মানুষের গু সাধারণত হালকা থেকে গাড় বাদামি রঙ্গের হয়ে থাকে। তাই আপনার গুয়ের রং যদি বাদামি বর্ণের হয়ে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে আপনি একজন আমজনতা। আমজনতা হউয়া খারাপ কিছু না, বাদামি গু ভালো স্বাস্থ্যেরও ইঙ্গিত করে থাকে। কারণ মৃত লাল রক্তের কোষের থেকে নির্গত বিলিরুবিন আর বাইলের সাথে মিশে বাদামি বর্ণ ধারণ করে থাকে এই গু। ইনফেকশন দ্বারা আক্রমণ হয় না বিধায় কোষ্ঠের বর্ণ বাদামি হয়।আর এই ধরণের গু মধ্যম ধাচের শক্ত হয়ে থাকে মুকাস আস্তরণের কারণে। তাই কারো গু যদি আপনি বাদামি বর্ণের দেখে থাকেন, তাহলে বুঝবেন ঐ ব্যক্তির চালচলন সাধারণ গোচের, মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির খেটে খাওয়া মানুষ। যার গু যত বেশী গাড় রঙ্গের হবে সে ততটাই সাধারণ।

কোষ্টের বর্ণ হলুদ হয়ে থাকে এক প্রকার সংক্রামকের কারণে, গিয়ার্ডিয়াছিছ হচ্ছে ঐ সংক্রামকের নাম। গিয়ার্ডিয়াছিস শব্দটা আসছে গিয়ার্ডিয়া থেকে, যা হচ্ছে একপ্রকার এনারোবিক প্রোটোজোয়ান পরজীবী। এই পরজীবী যতবেশী সংক্রামক হবে গু ততই হলুদ হবে। আর খুব বেশী বেড়ে গেলে ডায়রিয়া হউয়ার চান্স ৮০ ভাগ। তাই আপনি যখন দেখবেন কারও গুয়ের রং হলুদ, আপনি বুঝবেন ওর শরীরে ফ্যাট আছে, জীবনযাপন অনিয়ন্ত্রিত, লোভী, আবেগপ্রবণ আর বাচাল গোছের হয়ে থাকে। পার্টি পছন্দের দিক থেকে এরা বেশিরভাগ বিএনপির সাপোর্টার হয়ে থাকে। গু হলুদ হউয়ার আরেকটি প্রধান কারণ হল 'গিলবার্ট সিনড্রোম '। এই অবস্থা সাধারণত দেখা যায় পান্ডুরোগ এবং হাইপারবিলরেবিনিয়ার সময়, যখন রক্ত সঞ্চালনের সময় বিলিরুবিনের উপস্থিতি খুব বেশী বেড়ে যায়। অর্থাৎ যাদের গু হলুদ হয়ে থাকে তাদের ভেবেচিন্তে কাজ করার ক্ষমতা কম থাকে। 'ধুম ধাম, পুটকি উধাও' নীতিতে এরা বিশ্বাসী হয়ে থাকে। যদিও আমি বি.এন.পির সমর্থক নই,তবুও আমার গু কিন্তু বেশিরভাগ সময় হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে।

গু কালো বা লাল রঙ্গেরও হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে লাল রক্তের কোষ নাড়িভুড়িতে উপস্থিত থাকার কারণে এটা বেশিরভাগ সময় হয়ে থাকে। নাড়িভুড়িতে দীর্ঘক্ষণ থাকার কারণে এই কোষগুলো ভেঙ্গে ডাইজেস্টিভ এনজাইমে রূপান্তরিত হতে পারে না। এটাকে বলে মেলিনা, এবং এটা সাধারণত হয়ে থাকে মানবদেহের উপরিভাগ ডাইজেস্টিভ রাস্তায় রক্তপাত হউয়ার কারণে। এই রক্তপাত আবার বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে, হতে পারে সেটা পেপটিক আলসার থাকার কারণেই। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে, আপনার গ্যাস্ট্রিকের বড়সড় সমস্যা আছে কিনা। যদি থেকে থাকে তাহলে আপনার লাল বা কালো গু হাগার একটা অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যদি কারো গু এই বর্ণের হয়ে থাকে, বুঝবেন সে চরম মাত্রায় হতাশাগ্রস্থ। এই পৃথিবী আর তাকে চায় না। এই ধরনের ব্যক্তিরা হালকা গড়নের হয়ে থাকে, ভাবুক স্বভাব এদের মধ্যে চরমভাবে বিরাজমান। এদেরকে আপনি ৩ টাকা দামের সিঙ্গারা খাওইয়া ৩০০০ টাকার কাজ সহজেই করিয়ে নিতে পারবেন। এই গোত্রের বেশিরভাগ লোকের প্রথম পছন্দ 'দেশি গাঞ্জা'। আর 'চাইনিজ মোবাইলের ' প্রতি এরা কিছুটা দূর্বল হয়ে থাকে। সব থেকে মজার বিষয় হচ্ছে এদেরকে দেখে অনুমান করা সহজ যে এরা এই গোত্রের, যা অন্য গোত্রের ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। আবার খাদ্যভাসের কারণেও কিন্তু গু লাল বর্ণের হয়ে থাকে, যেমন লালশাক, রু -আফজা বা অধিক পরিমাণে রেড মিট খাওয়ার কারণে। মূল পার্থক্য হচ্ছে আপনি গু দেখলেই বুঝতে পারবেন, কে গোত্রের কারণে আর কে ই বা রু -আফজার কারণে।

গু কালো বর্ণের হয়ে থাকে সাধারণত ঔষুধ সেবনের কারণে। কালো গু গঠন হয়ে থাকে খাদ্যে আয়রণের আধিক্যের কারণে। আমরা যে ভিটামিন খাই বা আয়রন ট্যাবলেট, এই আয়রন আমাদের বর্ণিল গু কে কালো বানিয়ে দেয়। কালো গু খারাপ না। তারাশঙ্কর 'কবি ' উপন্যাসে লিখেছেন,

"কালো যদি মন্দ তবে কেশ পাকিলে কাঁদ কেনে?"

ঔষুধ সেবন ছাড়া আপনি যদি কালো গু হেগে থাকেন তাহলে বুঝবেন আপনি একজন সুঠাম দেহের অধিকারী। কালো গুয়ের পুরুষ ব্যাক্তিদের ছেলে সন্তান হউয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। ফাউ কথা বলছিনা, লজিক থেকেই বলছি। 'Y' ক্রোমজম গঠনে আয়রণের বিশেষ ভূমিকা আছে। তাই যার হবে কালো গু তার ছেলে শিশু হউয়ার সম্ভাবনা অইত্যাধিক। কালো গুয়ের মানুষেরা সাধারণত দৃড়চিত্তের হয়ে থাকে, কথা কম বলে, আর আবেগের চাইতে মাথা খাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে বেশী। এদের গায়ের রং কালো বা উজ্জ্বল শ্যামলা হউয়ার কিছুটা সম্ভাবনা থাকে। এরা মিথ্যাচার সাধারণত খুব একটা করে না, আর করলেও সেই মিথ্যা আপনি সহজেই ধরতে পারবেন।

কোষ্টের বর্ণ নীল, রূপালী, অথবা সবুজ বর্ণেরও হতে পারে। এই তিন বর্ণের গু আমার মনে হয় না আপনি ইহকালে দেখিবার সুযোগ পাইবেন। বড়জোর গ্রেপ সোডা খেয়ে গুয়ের বর্ণ নীলাভ করার একটা চেষ্টা করতে পারেন মাত্র। তা ও মনে হয়না কাজে দিবে। তাছাড়া কারও যদি থেলিয়াম পয়জনিং এ ভুগে Prussian Blue প্রয়োগের কারণে কোষ্টের বর্ণ নীলাভ হতে পারে। তবে হ্যাঁ, আপনি যদি অত্যাধিক পরিমাণে চিনি খেতে পারেন তাহলে ডাইজেস্টিভ এরিয়াতে Bile এর মাত্রা বাড়াতে তরল সবুজাভ গু হাগার এক অপূর্ব মূহুর্ত অবলোকন করার এক অনন্য সৌভাগ্য আপনি অর্জন করতে পারেন। এইসব বর্ণের গু আমার সচক্ষে দেখার সুযোগ হয়নি, তাই এদের ব্যাপারে আমি অজ্ঞই বলা চলে। তাই এই গোত্রের মানুষ কি রকম হবে, তা বলা আমার জন্য অসম্ভব।

আমি আগেই বলেছি, অসম্ভব কিছুই না। আপনি যে বিরক্ত হয়ে আমার লেখা পড়া বন্ধ করে দিয়েছেন তাও অসম্ভব না। আবার হয়তো করার মতোই কিছুই নাই দেখে হয়তো কান চুলকাতে চুলকাতে পড়ে যাচ্ছেন ভ্রু কুচকিয়ে, এবং চোখদুটো আধা খুলে। চোখদুটো আধা খুলে রেখেছেন কারণ এখন আপনি আরাম পাচ্ছেন। মানুষ যখন জাগ্রত অবস্থায় আরাম পায় তখন তার চোখদুটো আধা খোলা থাকে আর আধা বন্ধ থাকে। এটা আমার কথা না, এটা ডক্টর বেঞ্জামিনের কথা। তাই আপনি যেহেতু এখন কান চুলকাচ্ছেন তাই আপনার চোখ আধা খোলা থাকাটাই স্বাভাবিক। একটা পরামর্শ দিচ্ছি, কান চুলকানি বন্ধ করার পর যেটা দিয়ে চুল্কাছিলেন তা একটু নাক দিয়ে শুকে দেখবেন। এতে ছি ছি করার কিছুই নাই। আমরা আসলে কান থেকে যে খৈল বের করি তাকে যদি আপনি ময়লা বলে ছি ছি করেন তাহলে এটাকে অপমান করা হবে। এগুলো আসলে হচ্ছে একপ্রকার মোম যা আমাদের কানকে বাহিরের বাতাস আর পানি থেকে মুক্ত রাখে। আর এই খৈ লে কিন্তু এলকোহলও থাকে। তাই বলছিলাম শুকে দেখার জন্য। এলকোহলের ঘ্রাণও কিন্তু নেশা তৌরিতে সহায়ক। একবার শুকে দেখবেন কি?

যাইহোক আমি এখানে কান চুলকানি বা গু নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক করার জন্য আসি নাই। আমি আসছি আমার জীবনের কাহিনী শোনানোর জন্য... একজন আবুলের কাহিনী ...

কাহিনী শুরুতেই একটু রস মার্কা কথা ঢেলে দিলে ভালো হয়, আপনার আগ্রহ জিইয়ে রাখতে পারবো। (একটা জিনিস লক্ষ্য করেছেন, মানুষ যে খুব আজব প্রাণী! জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চেষ্টা করে যায় অন্যের আগ্রহ ধরে রাখার।জন্মের পর পরই কান্না জুড়ে দেয় সবার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য, আবার মৃত্যুর পরও সবাইকে কাঁদিয়ে সেই আগ্রহ কিছুক্ষণের জন্য হলেও জিইয়ে রাখে। বড়ই আজব প্রাণী...) এখন আমার আগ্রহ ধরে রাখার রসের কথাটা হচ্ছে, আমি গত ৭ বছর আমার বড় বোনের বান্ধবীর সাথে 'পলান টুক টুক ' খেলছি। প্রেমিকের ভাষায় যাকে বলে 'প্রেম ', আর মুরুব্বীদের ভাষায় যাকে বলে 'নষ্টামী '। আপনি হয়তো ভাবছেন এতে রসের কি হইলো!!! ভাবতেই পারেন, ভাবনা আপনার তয় তালগাছ আমার। কারণ সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৫-২৭ বছরের পুরুষদের ৬৭ শতাংশ তার থেকে বয়সে বড় মেয়েদের বা বেডিদের প্রতি আগ্রহ বেশী থাকে। মেয়েদের বেলায় বয়সের গন্ডিটা আবার একটু কম, তবে শতাংশের দিক দিয়ে বেশী। ১১-১৯, এই বয়সের মেয়েরা নাকি মাত্রাতিরিক্ত বয়সের পুরুষদের ব্যপারে 'বিশেষভাবে ' আগ্রহী হয়ে থাকে। বাপ - চাচা বয়সী লোকদের কাছে নাকি নিজেদের দেহ সপে দিতে কুন্ঠিত বোধ করে না! অভিজ্ঞতা বলে কথা... সপে তো দেওয়া যেতেই পারে। সাম্প্রতিক সময়ের প্যান্থারের এড দেখে তো মনে হয়, তারা ইতিমধ্যেই 'আসল পুরুষের ' মেডেল পেয়ে গেছে। যাইহোক, বেশিরভাগ পুরুষের মতো আমারও ম্যাচিউর ওমেন এক নম্বর পছন্দ। যদিও তন্দ্রার সাথে রিলেশন হউয়ার সময় এতো কিছু মাথায় ছিলো না। তখন মন ছিল নরম ভেজা মাটির মতো, আর নরম মাটি পাইলে তো বিলাইও নাকি হাগে!!!

আরেকটু রস ঢালি, আমি আবার অল্পতে বিশ্বাসী না। ঢালবো যখন বোতল উপুড় কইরাই ঢালবো। তাছাড়া কাষ্টমারও তো ধরা লাগবে। আমার তো মনে হয় কান চুলকানো যাদের শেষ তারাও হয়তো গেছে গা। যাইহোক লেখা যখন শুরু করছি তখন থামলে মান সন্মানের ব্যপার। মান -সন্মান আবার অনেক বড় জিনিস, আর নিজের কাছে নিজের মান সন্মান হাড়ানোও লজ্জার বিষয়। যাই হোক যে কথা বলছিলাম, তন্দ্রা আমার থেকে বড় হবার পাশাপাশি আরেকটা বিষয় আছে, যা আপনাদের সুড়সুড়ি একটু হলেও দিতে পারে। আর তা হচ্ছে, সে হিন্দু আর আমি মুসলিম। হিন্দু মেয়েদের যে মার্কেটে ডিমান্ড আছে সে বিষয়টা হয়তো আপনি কিছুটা হলেও ওয়াকিবহাল। কোন ক্ষেত্রে ডিমান্ড, তা হয়তো সহজেই বুঝতে পারছেন। তাই আর খোলসা করলাম না। যদিও আমি তাসলিমা নাসরীনের মতোই জানি, এখানে অনেকেই আছেন যারা সুশীল সমাজের মুখোশ পড়ে রসময় সাহিত্য চর্চা করতে পছন্দ করেন। কথা হচ্ছে এই বিষয়ে আমারও কোন আপত্তি নেই বা থাকা উচিত নয়। আরে ভাই শারীরবৃত্তীয় চাহিদা তো শরীরেরই একটি অংশ, নাকি। এটা নিয়ে এতো মাতামাতির কি আছে!! হিন্দু ধর্মে কামশাস্ত্র তো ধর্মেরই একটি অংশ, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে পাগান অনুসারীদের মতে স্ত্রী -লিংগম হচ্ছে একটি সর্গীয় ব্যপার। আর বিজ্ঞানীদের মতে জাগ্রত অবস্থায় মানুষ নাকি একমাত্র একটি কাজই পূর্ণ মনোযোগ, একনিষ্ঠ, আন্তরিক, এবং আনন্দের সহিত করতে পারে, আর তা হচ্ছে 'সংগম '। আর এই সংগমের কায়দা কানুন হিন্দু মেয়েরা জানে বিধায় তারা তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে করতে পারে। যার কারণে উপমহাদেশে হিন্দু মেয়েদের এতো ডিমান্ড। যাঃ শালা বলেই তো দিলাম মুখ ফসকে!!!

যাইহোক সংগম স্বর্গীয় সুখ হোক আর নরকীয়, হিন্দু মেয়েদের ডিমান্ড থাকুক আর না থাকুক, আর আপনারা বিশ্বাস করেন আর না ই বা করেন, তন্দ্রার সাথে আমার গত ৭ বছরে অনেকবার রুমডেট হলেও আমরা কিন্তু সেই স্বর্গীয় সুখ উপভোগ করিনি একটি বারের জন্যও ... না আমি নৃপুংশক নই, আবার আমি ধজভঙ্গতেও ভুগছি না, এবং আমি সাধু গোত্রীয় মানুষও নই। আমি হাজি বংশের ছেলেও না, তন্দ্রার বাবাও কোন পুরোহিত নয়। আমি রবিন্দ্রনাথের চাইতেও এমিনেমের গালিগালাজ পূর্ণ গান শুনতে বেশী ভালোবাসি, তন্দ্রাও ইমরান হাসমির ছবি দেখতে পছন্দ করে। আমি গডে বিশ্বাসী না, যখন যা মন চায় তখন তা ই করি। তারপরও গত সাত বছরে আমরা একবারের জন্য হলেও চেষ্টা করিনি ... পাগানদের ভাষায় যা হচ্ছে স্বর্গীয় সুখ, আর আপনাদের ভাষায় যা হচ্ছে 'নষ্টামি '...একটি বারের জন্যও না... আর ঠিক এরকমই ছিল আমাদের ৭ বছরের ভালবাসা। 'ছিল ' বলছি কারণ এখন আর তা অবশিষ্ট নেই।

আমি বাথরুমে ঢুকেছিলাম ভোর ৪ টা বাজার কিছুক্ষণ আগে... মুখ ধুয়ে শেষ বারের মতো নিজেকে আয়নায় দেখছিলাম ... দাড়ি গোফ বড় লাগছিলো খুব, উপরের ঠোঁট দেখতে পাচ্ছিলাম না, চুলগুলো ছিলো এলোমেলো .. তেল না দেওয়ার কারণেই কিনা জানি না, লালচে লালচে দেখাচ্ছিল ... আর চোখগুলোর নিচে কালো কালো দুটি ছোপ.. তারপরও খুব শান্ত ছিলো চোখজোড়া ... মানিব্যাগ থেকে ব্লেডটি বের করেছিলাম ঠিক তারপরেই.. ব্লেডের উপরে লেখা 'Sharp'। ব্লেডটা কিনেছিলাম রাত সাড়ে দশটায়। তন্দ্রাদের বাসায় যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে, বাস থেকে নেমেই। ব্লেড কিনার পর হাতে নিয়েই মনে হলো, ২২ বছরের জীবনে এইটাই হচ্ছে আমার কিনা প্রথম ব্লেড। আমি ব্লেডটা ম্যানিব্যাগের সাইড পকেটে রেখেই ফোন দিয়েছিলাম তন্দ্রার বাবাকে। রাত তখন বাজে ১০টা ২০.. আমি বললাম, "স্লামালাইকুম...আমি চান্দিনায় এসেছি"। কান্নাতাড়িত কন্ঠে নাক টানতে টানতে তিনি আমাকে বললেন, "কোথায় তুমি? "

- আমি পালকি সিনেমা হলের সামনে। আজকে অনেক রাত হয়ে গিয়েছে, আমি আগামীকাল সকালে আপনার সাথে দেখা করতে চাচ্ছি।

- রাতে কোথায় থাকবা তুমি?

- আমি আমার ব্যবস্থা করে নিয়েছি, আপনি এ বিষয়ে চিন্তিত না হলেও চলবে।

তিনি বিড় বিড় করে কি যেন বললেন, তারপর কলটি কেটে দিলেন। আমি আমার রাতের থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছিলাম .. বন্ধ করা একটি দোকানের শিকল দিয়ে বেধেঁ রাখা বেঞ্চের উপর। খুব ক্ষিধে লাগছিল তখন, সারাদিনে এক বেলা খেয়েছিলাম সেদিন। আর তার থেকেও বেশী লাগছিল পানির পিপাসা। দোকানের পাশেই একটি টিউবওয়েল ছিল, সম্ভবত সেই পানির আর্সেনিকের মাত্রা ১০ এর কাছাকাছি হবে। আমি মুখে দিতেই মনে হলো আমি লোহার গুড়া মিশানো পানি মুখে দিয়েছি। ঐ পানি দিয়ে হাত - মুখ ধুয়েই ঢক ঢক করে পানি খেতেই মোবাইল ২য় বারের জন্য বেজে উঠেছিল। এবার কল করেছে তন্দ্রা, যার কারণে আমার এতোদূর ছুটে আসা। যার প্রতিটি কথার পরের কথা আমি জানতাম কি হবে। যার কাছে গেলেই আমি একটি অদ্ভুত ঘ্রাণ পেতাম, চোখ বন্ধ করে বুঝার চেষ্টা করতাম ঘ্রাণটা কিসের .. যাকে একা পেলেই দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরতাম খুব জোড়ে, দম নাকি তার বন্ধ হয়ে আসতো তারপরও ছাড়তাম না... যে কিনা অন্য কোনো মেয়ের ফিগার দেখে আমার উত্তেজিত হবার কথা বলার আগেই আমার গালে কষে সবার সামনে থাপ্পড় দিয়ে দিত। আমি তখন আশপাশে কেউ দেখছে কিনা নিশ্চিত হয়ে অই মেয়ের ফিগারের বাকি আলাপটুকু নিরাপদ দুরত্ব থেকে শেষ করার চেষ্টা করতাম। যে কিনা তার মন মতো কথায় সায় না দিলেই 'থু 'করে একদলা থুতু দিয়ে দিত আমার মুখে অথবা গালে.. কোন কোন সময় আমার গায়ে আর মাঝে মাঝে আসেপাশে কেউ না থাকলে একেবারে আমার মুখের ভিতরে। আরো একজায়গায় থুতু অবশ্য দিয়ে দিত মাঝে মাঝে, তা আমি আর বলতে চাচ্ছি না। না হয় এই লেখা আবার রসময় গুপ্তের সাহিত্যে পরিণত হয়ে যাবার আশঙ্কা আছে। যাইহোক তার থাপ্পড়ের চাইতেও এই থুতু দেওয়ার ভয়ে আমি তটস্থ থাকতাম বেশিরভাগ সময় কিনবা অপেক্ষা করতাম ঠিক এটার জন্যই...

টিউবওয়েলর পানি মুখ থেকে মুছতে মুছতে ভাবছিলাম এই মেয়ে শেষ আমার গায়ে থুতু মেরেছিল ১৩ই নভেম্বর, আর আজ ১৭ই নভেম্বর ... ৫ দিন ... মাত্র ৫ দিনে আমার জীবনের সবথেকে সুন্দরতম অধ্যায় শেষ হয়ে যাচ্ছে ... মাত্র ৫ দিন ...আর এদিকে মোবাইল ভাইব্রেট করেই যাচ্ছে ...


TO BE CONTINUED ...