Saturday, February 2, 2013

ত্রিভকালের প্রান্তরে : 'গু' সমাচার ও একজন আবুলের গল্পের প্রারম্ভিকা

১৮ই নভেম্বর ২০১২, রাত তখন বাজছিল ৪ টার কাছাকাছি, হয়তোবা আরো বেশীও হতে পারে। আমি বাথরুমে যাবার আগে সময় দেখিনি, দেখা উচিত ছিল। তাহলে আপনাকে পার্ফেক্ট সময়টা বলতে পারতাম। সময় জানাটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিলো, কারণ তার কিছুক্ষণ পরেই আমি তন্দ্রাদের বাসার দূর্গন্ধময় বাথরুমে গিয়েছিলাম। আপনি হয়তো ভাবছেন, বাথরুমে যাওয়া নিয়ে কাহিনী করছি কেন আমি?

কাহিনী করছি কারণ সবার জীবনেই কাহিনী আছে, প্রত্যেকটা মূহূর্তের এক একটি কাহিনী। এক একটি ফ্রেম নিয়ে এক একটি কাহিনী। সিঙ্গেল ফ্রেমের কাহিনী যেমন আছে, মাল্টিফ্রেমেরও আছে। 'পাদ' মারা যদি সিঙ্গেল ফ্রেমের হয়ে থাকে তাহলে পায়খানা করা হচ্ছে মাল্টিফ্রেমের কাহিনী, প্রথমে প্যান্ট খুলো (বেল্ট থাকলে আগে বেল্ট, আর পাঞ্জাবি পড়া থাকলে আগে পাঞ্জাবি), তারপর বদনা হাতে নিয়ে পজিশন করে বসে পড়া। আমি আবার হাই কমোডে হাগতে পারি না, মানে ইংলিশ কমোডে। অনেকের যেমন উচ্চতা ভীতি, মাকড়শা ভীতি, তেলাপোকা ভীতি আছে , আমার তেমন হাই কমোড ভীতি আছে। মেডিকেল সায়েন্সে হয়তো এই সংক্রান্ত কোন ফোবিয়া থাকলেও থাকতে পারে, 'হাইকমোডভিয়া',বা 'কমডোফোবিয়া '। অসম্ভব কিছু না, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে 'Taboo ' বা ডিসকোভারি চ্যানেলে 'sqamish ' এর কোন না কোন পর্ব দেখে থাকলে আমার হাই কমোড ভীতি আপনার কাছে মোটেই আশ্চর্যজনক মনে হউয়ার কথা না। আমার হাইকমোডোভিয়া নিয়েও হয়তো কোন একদিন এপিসোড দেখাতে পারে। হয়তোবা আমাকেই শো এর হোস্ট পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলবে,

"ইনি হচ্ছে 'সাব্বির আহমেদ ', যিনি কিনা গত ২২ বছর ধরে 'হাইকমোডোভিয়া ' নামক অত্যন্ত জটিল এবং হাস্যকর রোগে ভুগছে। যার কারণে হাইকমোডে বসা মাত্র উনার পোন্দের গু মাথায় উঠে যায়, হার্ট বিট বেড়ে যায়, হাত পা ঘামাতে শুরু করে, ব্লাড পেশার বেড়ে যায় কিন্তু তারপরও ...তারপরও উনার পোন্দে দিয়ে গু বাহির হয় না ..."

..অসম্ভব কিছু না। এই ভীতি থাকার কারণে আপনি চাইলে আমাকে 'গ্রামের অশিক্ষিত চাড়াল' বলে গালিও দিতে পারেন, আমি কিছুই মনে করবো না। আপনি হয়তো রাজকীয় ভাবে বসে জ্ঞানী ভাব ধরে হাগতে বেশী পছন্দ করলেও করতে পারেন, তবে আমি করি না। 'জ্ঞানী ভাব ধরা' বলতেই মনে পড়লো একজনের কথা। আমাদের সাথে ঢাকার শাহজাদপুরে এক ছেলে থাকতো, নাম সাইফ। সে আবার সকালবেলার প্রাতরাশের পর খবরের কাগজটা নিয়ে হাইকমোডওলা বাথরুমে ঢুকতো, আর বের হতো পুরো খবরের কাগজ শেষ করে। এর মধ্যে আমরা মাঝেমধ্যে ভুলেও যেতাম, বাথরুমে কেউ কি আসলেই আছে, নাকি নাই! কারণ কোন সাড়াশব্দ পেতাম না, এমনকি পানি খরচের শব্দও না! প্রথমআলো পত্রিকায় নূন্যতম ২৪ পৃষ্ঠা থাকে (ক্রোড়পত্র বাদে)। একমিনিট করে প্রতি পৃষ্ঠা পরলেও ২৪ মিনিট লাগবে। এখন সাইফ যদি প্রথম দলা ২ মিনিটে আর শেষ দলা ৫ মিনিটে বের করে, তাহলে তার পায়খানা ৯ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়া উচিত। আর বাকি ১৫ মিনিটে সে যদি পানি খরচ না করে পেপার পড়েই যায়, তাহলে তার গুয্যদ্বারে লেগে থাকা গু শুকিয়ে যাওয়ার কথা। আর আপনি যদি সায়েন্সের স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন, আপনি নিশ্চয়ই জানেন গু কি কি উপাদান দিয়ে গঠিত হয়ে থাকে। তাই সাইফের গু যদি বাদামি রঙ্গের হয়ে থাকে তাহলে bile আর bilirubin এর কারণে mucus আস্তরণ তৌরি যাবে। যার ফলে গুয্যদ্বারে লেগে থাকা গু ১৫ মিনিটে নরম থেকে কঠিন হয়ে যাবে, আর তা তখন পানি দিয়ে হালকা ঘষা দিলেও উঠবে না। তখন যা করতে হবে তা হচ্ছে, পানি দিয়ে প্রথমে হালকা ভাবে ভিজিয়ে রাখতে হবে আর তার দুই মিনিট পর নরম হয়ে গেলে গুয্যদ্বার পরিষ্কার করতে হবে। আপনি হয়তো ভাবছেন আমি গু নিয়ে এতো ব্যস্ত হয়েছি কেন। ব্যস্ত হতে হয়, 'গু ' গু বলে আমি মোটেই তাকে ছোট চোখে দেখি না। মানুষের হাত দেখে যেমন ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে পামিস্টরা, আমি তেমন গু দেখে একটা মানুষ সম্পর্কে অনেক কিছুই বলতে পারি।আপনি হয়তো ভাবছেন আমি গুলপট্টি মারছি, বা ফাজলামো করছি। ...আমি মোটেও গুলপট্টি মারছি না, আবার ফাজলামোও করছি না।

মানুষের গু ছয় রকমের হয়ে থাকে। রকম না বলে ছয় রঙ্গের বলাটা মনে হয় ঠিক হবে। আর এসব রং খেয়াল খুশী মতো হয় না বরং নির্ভর করে মানুষের খাদ্যাভ্যাস, চাল -চলন, আর স্বাস্থ্যের উপর। অর্থাৎ একজন ব্যাক্তি কিভাবে জীবনযাপন করছে তা সহজেই ফুটে উঠে তার গুয়ের মাধ্যমে।

বেশিরভাগ মানুষের গু সাধারণত হালকা থেকে গাড় বাদামি রঙ্গের হয়ে থাকে। তাই আপনার গুয়ের রং যদি বাদামি বর্ণের হয়ে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে আপনি একজন আমজনতা। আমজনতা হউয়া খারাপ কিছু না, বাদামি গু ভালো স্বাস্থ্যেরও ইঙ্গিত করে থাকে। কারণ মৃত লাল রক্তের কোষের থেকে নির্গত বিলিরুবিন আর বাইলের সাথে মিশে বাদামি বর্ণ ধারণ করে থাকে এই গু। ইনফেকশন দ্বারা আক্রমণ হয় না বিধায় কোষ্ঠের বর্ণ বাদামি হয়।আর এই ধরণের গু মধ্যম ধাচের শক্ত হয়ে থাকে মুকাস আস্তরণের কারণে। তাই কারো গু যদি আপনি বাদামি বর্ণের দেখে থাকেন, তাহলে বুঝবেন ঐ ব্যক্তির চালচলন সাধারণ গোচের, মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির খেটে খাওয়া মানুষ। যার গু যত বেশী গাড় রঙ্গের হবে সে ততটাই সাধারণ।

কোষ্টের বর্ণ হলুদ হয়ে থাকে এক প্রকার সংক্রামকের কারণে, গিয়ার্ডিয়াছিছ হচ্ছে ঐ সংক্রামকের নাম। গিয়ার্ডিয়াছিস শব্দটা আসছে গিয়ার্ডিয়া থেকে, যা হচ্ছে একপ্রকার এনারোবিক প্রোটোজোয়ান পরজীবী। এই পরজীবী যতবেশী সংক্রামক হবে গু ততই হলুদ হবে। আর খুব বেশী বেড়ে গেলে ডায়রিয়া হউয়ার চান্স ৮০ ভাগ। তাই আপনি যখন দেখবেন কারও গুয়ের রং হলুদ, আপনি বুঝবেন ওর শরীরে ফ্যাট আছে, জীবনযাপন অনিয়ন্ত্রিত, লোভী, আবেগপ্রবণ আর বাচাল গোছের হয়ে থাকে। পার্টি পছন্দের দিক থেকে এরা বেশিরভাগ বিএনপির সাপোর্টার হয়ে থাকে। গু হলুদ হউয়ার আরেকটি প্রধান কারণ হল 'গিলবার্ট সিনড্রোম '। এই অবস্থা সাধারণত দেখা যায় পান্ডুরোগ এবং হাইপারবিলরেবিনিয়ার সময়, যখন রক্ত সঞ্চালনের সময় বিলিরুবিনের উপস্থিতি খুব বেশী বেড়ে যায়। অর্থাৎ যাদের গু হলুদ হয়ে থাকে তাদের ভেবেচিন্তে কাজ করার ক্ষমতা কম থাকে। 'ধুম ধাম, পুটকি উধাও' নীতিতে এরা বিশ্বাসী হয়ে থাকে। যদিও আমি বি.এন.পির সমর্থক নই,তবুও আমার গু কিন্তু বেশিরভাগ সময় হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে।

গু কালো বা লাল রঙ্গেরও হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে লাল রক্তের কোষ নাড়িভুড়িতে উপস্থিত থাকার কারণে এটা বেশিরভাগ সময় হয়ে থাকে। নাড়িভুড়িতে দীর্ঘক্ষণ থাকার কারণে এই কোষগুলো ভেঙ্গে ডাইজেস্টিভ এনজাইমে রূপান্তরিত হতে পারে না। এটাকে বলে মেলিনা, এবং এটা সাধারণত হয়ে থাকে মানবদেহের উপরিভাগ ডাইজেস্টিভ রাস্তায় রক্তপাত হউয়ার কারণে। এই রক্তপাত আবার বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে, হতে পারে সেটা পেপটিক আলসার থাকার কারণেই। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে, আপনার গ্যাস্ট্রিকের বড়সড় সমস্যা আছে কিনা। যদি থেকে থাকে তাহলে আপনার লাল বা কালো গু হাগার একটা অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যদি কারো গু এই বর্ণের হয়ে থাকে, বুঝবেন সে চরম মাত্রায় হতাশাগ্রস্থ। এই পৃথিবী আর তাকে চায় না। এই ধরনের ব্যক্তিরা হালকা গড়নের হয়ে থাকে, ভাবুক স্বভাব এদের মধ্যে চরমভাবে বিরাজমান। এদেরকে আপনি ৩ টাকা দামের সিঙ্গারা খাওইয়া ৩০০০ টাকার কাজ সহজেই করিয়ে নিতে পারবেন। এই গোত্রের বেশিরভাগ লোকের প্রথম পছন্দ 'দেশি গাঞ্জা'। আর 'চাইনিজ মোবাইলের ' প্রতি এরা কিছুটা দূর্বল হয়ে থাকে। সব থেকে মজার বিষয় হচ্ছে এদেরকে দেখে অনুমান করা সহজ যে এরা এই গোত্রের, যা অন্য গোত্রের ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। আবার খাদ্যভাসের কারণেও কিন্তু গু লাল বর্ণের হয়ে থাকে, যেমন লালশাক, রু -আফজা বা অধিক পরিমাণে রেড মিট খাওয়ার কারণে। মূল পার্থক্য হচ্ছে আপনি গু দেখলেই বুঝতে পারবেন, কে গোত্রের কারণে আর কে ই বা রু -আফজার কারণে।

গু কালো বর্ণের হয়ে থাকে সাধারণত ঔষুধ সেবনের কারণে। কালো গু গঠন হয়ে থাকে খাদ্যে আয়রণের আধিক্যের কারণে। আমরা যে ভিটামিন খাই বা আয়রন ট্যাবলেট, এই আয়রন আমাদের বর্ণিল গু কে কালো বানিয়ে দেয়। কালো গু খারাপ না। তারাশঙ্কর 'কবি ' উপন্যাসে লিখেছেন,

"কালো যদি মন্দ তবে কেশ পাকিলে কাঁদ কেনে?"

ঔষুধ সেবন ছাড়া আপনি যদি কালো গু হেগে থাকেন তাহলে বুঝবেন আপনি একজন সুঠাম দেহের অধিকারী। কালো গুয়ের পুরুষ ব্যাক্তিদের ছেলে সন্তান হউয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। ফাউ কথা বলছিনা, লজিক থেকেই বলছি। 'Y' ক্রোমজম গঠনে আয়রণের বিশেষ ভূমিকা আছে। তাই যার হবে কালো গু তার ছেলে শিশু হউয়ার সম্ভাবনা অইত্যাধিক। কালো গুয়ের মানুষেরা সাধারণত দৃড়চিত্তের হয়ে থাকে, কথা কম বলে, আর আবেগের চাইতে মাথা খাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে বেশী। এদের গায়ের রং কালো বা উজ্জ্বল শ্যামলা হউয়ার কিছুটা সম্ভাবনা থাকে। এরা মিথ্যাচার সাধারণত খুব একটা করে না, আর করলেও সেই মিথ্যা আপনি সহজেই ধরতে পারবেন।

কোষ্টের বর্ণ নীল, রূপালী, অথবা সবুজ বর্ণেরও হতে পারে। এই তিন বর্ণের গু আমার মনে হয় না আপনি ইহকালে দেখিবার সুযোগ পাইবেন। বড়জোর গ্রেপ সোডা খেয়ে গুয়ের বর্ণ নীলাভ করার একটা চেষ্টা করতে পারেন মাত্র। তা ও মনে হয়না কাজে দিবে। তাছাড়া কারও যদি থেলিয়াম পয়জনিং এ ভুগে Prussian Blue প্রয়োগের কারণে কোষ্টের বর্ণ নীলাভ হতে পারে। তবে হ্যাঁ, আপনি যদি অত্যাধিক পরিমাণে চিনি খেতে পারেন তাহলে ডাইজেস্টিভ এরিয়াতে Bile এর মাত্রা বাড়াতে তরল সবুজাভ গু হাগার এক অপূর্ব মূহুর্ত অবলোকন করার এক অনন্য সৌভাগ্য আপনি অর্জন করতে পারেন। এইসব বর্ণের গু আমার সচক্ষে দেখার সুযোগ হয়নি, তাই এদের ব্যাপারে আমি অজ্ঞই বলা চলে। তাই এই গোত্রের মানুষ কি রকম হবে, তা বলা আমার জন্য অসম্ভব।

আমি আগেই বলেছি, অসম্ভব কিছুই না। আপনি যে বিরক্ত হয়ে আমার লেখা পড়া বন্ধ করে দিয়েছেন তাও অসম্ভব না। আবার হয়তো করার মতোই কিছুই নাই দেখে হয়তো কান চুলকাতে চুলকাতে পড়ে যাচ্ছেন ভ্রু কুচকিয়ে, এবং চোখদুটো আধা খুলে। চোখদুটো আধা খুলে রেখেছেন কারণ এখন আপনি আরাম পাচ্ছেন। মানুষ যখন জাগ্রত অবস্থায় আরাম পায় তখন তার চোখদুটো আধা খোলা থাকে আর আধা বন্ধ থাকে। এটা আমার কথা না, এটা ডক্টর বেঞ্জামিনের কথা। তাই আপনি যেহেতু এখন কান চুলকাচ্ছেন তাই আপনার চোখ আধা খোলা থাকাটাই স্বাভাবিক। একটা পরামর্শ দিচ্ছি, কান চুলকানি বন্ধ করার পর যেটা দিয়ে চুল্কাছিলেন তা একটু নাক দিয়ে শুকে দেখবেন। এতে ছি ছি করার কিছুই নাই। আমরা আসলে কান থেকে যে খৈল বের করি তাকে যদি আপনি ময়লা বলে ছি ছি করেন তাহলে এটাকে অপমান করা হবে। এগুলো আসলে হচ্ছে একপ্রকার মোম যা আমাদের কানকে বাহিরের বাতাস আর পানি থেকে মুক্ত রাখে। আর এই খৈ লে কিন্তু এলকোহলও থাকে। তাই বলছিলাম শুকে দেখার জন্য। এলকোহলের ঘ্রাণও কিন্তু নেশা তৌরিতে সহায়ক। একবার শুকে দেখবেন কি?

যাইহোক আমি এখানে কান চুলকানি বা গু নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক করার জন্য আসি নাই। আমি আসছি আমার জীবনের কাহিনী শোনানোর জন্য... একজন আবুলের কাহিনী ...

কাহিনী শুরুতেই একটু রস মার্কা কথা ঢেলে দিলে ভালো হয়, আপনার আগ্রহ জিইয়ে রাখতে পারবো। (একটা জিনিস লক্ষ্য করেছেন, মানুষ যে খুব আজব প্রাণী! জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চেষ্টা করে যায় অন্যের আগ্রহ ধরে রাখার।জন্মের পর পরই কান্না জুড়ে দেয় সবার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য, আবার মৃত্যুর পরও সবাইকে কাঁদিয়ে সেই আগ্রহ কিছুক্ষণের জন্য হলেও জিইয়ে রাখে। বড়ই আজব প্রাণী...) এখন আমার আগ্রহ ধরে রাখার রসের কথাটা হচ্ছে, আমি গত ৭ বছর আমার বড় বোনের বান্ধবীর সাথে 'পলান টুক টুক ' খেলছি। প্রেমিকের ভাষায় যাকে বলে 'প্রেম ', আর মুরুব্বীদের ভাষায় যাকে বলে 'নষ্টামী '। আপনি হয়তো ভাবছেন এতে রসের কি হইলো!!! ভাবতেই পারেন, ভাবনা আপনার তয় তালগাছ আমার। কারণ সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৫-২৭ বছরের পুরুষদের ৬৭ শতাংশ তার থেকে বয়সে বড় মেয়েদের বা বেডিদের প্রতি আগ্রহ বেশী থাকে। মেয়েদের বেলায় বয়সের গন্ডিটা আবার একটু কম, তবে শতাংশের দিক দিয়ে বেশী। ১১-১৯, এই বয়সের মেয়েরা নাকি মাত্রাতিরিক্ত বয়সের পুরুষদের ব্যপারে 'বিশেষভাবে ' আগ্রহী হয়ে থাকে। বাপ - চাচা বয়সী লোকদের কাছে নাকি নিজেদের দেহ সপে দিতে কুন্ঠিত বোধ করে না! অভিজ্ঞতা বলে কথা... সপে তো দেওয়া যেতেই পারে। সাম্প্রতিক সময়ের প্যান্থারের এড দেখে তো মনে হয়, তারা ইতিমধ্যেই 'আসল পুরুষের ' মেডেল পেয়ে গেছে। যাইহোক, বেশিরভাগ পুরুষের মতো আমারও ম্যাচিউর ওমেন এক নম্বর পছন্দ। যদিও তন্দ্রার সাথে রিলেশন হউয়ার সময় এতো কিছু মাথায় ছিলো না। তখন মন ছিল নরম ভেজা মাটির মতো, আর নরম মাটি পাইলে তো বিলাইও নাকি হাগে!!!

আরেকটু রস ঢালি, আমি আবার অল্পতে বিশ্বাসী না। ঢালবো যখন বোতল উপুড় কইরাই ঢালবো। তাছাড়া কাষ্টমারও তো ধরা লাগবে। আমার তো মনে হয় কান চুলকানো যাদের শেষ তারাও হয়তো গেছে গা। যাইহোক লেখা যখন শুরু করছি তখন থামলে মান সন্মানের ব্যপার। মান -সন্মান আবার অনেক বড় জিনিস, আর নিজের কাছে নিজের মান সন্মান হাড়ানোও লজ্জার বিষয়। যাই হোক যে কথা বলছিলাম, তন্দ্রা আমার থেকে বড় হবার পাশাপাশি আরেকটা বিষয় আছে, যা আপনাদের সুড়সুড়ি একটু হলেও দিতে পারে। আর তা হচ্ছে, সে হিন্দু আর আমি মুসলিম। হিন্দু মেয়েদের যে মার্কেটে ডিমান্ড আছে সে বিষয়টা হয়তো আপনি কিছুটা হলেও ওয়াকিবহাল। কোন ক্ষেত্রে ডিমান্ড, তা হয়তো সহজেই বুঝতে পারছেন। তাই আর খোলসা করলাম না। যদিও আমি তাসলিমা নাসরীনের মতোই জানি, এখানে অনেকেই আছেন যারা সুশীল সমাজের মুখোশ পড়ে রসময় সাহিত্য চর্চা করতে পছন্দ করেন। কথা হচ্ছে এই বিষয়ে আমারও কোন আপত্তি নেই বা থাকা উচিত নয়। আরে ভাই শারীরবৃত্তীয় চাহিদা তো শরীরেরই একটি অংশ, নাকি। এটা নিয়ে এতো মাতামাতির কি আছে!! হিন্দু ধর্মে কামশাস্ত্র তো ধর্মেরই একটি অংশ, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে পাগান অনুসারীদের মতে স্ত্রী -লিংগম হচ্ছে একটি সর্গীয় ব্যপার। আর বিজ্ঞানীদের মতে জাগ্রত অবস্থায় মানুষ নাকি একমাত্র একটি কাজই পূর্ণ মনোযোগ, একনিষ্ঠ, আন্তরিক, এবং আনন্দের সহিত করতে পারে, আর তা হচ্ছে 'সংগম '। আর এই সংগমের কায়দা কানুন হিন্দু মেয়েরা জানে বিধায় তারা তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে করতে পারে। যার কারণে উপমহাদেশে হিন্দু মেয়েদের এতো ডিমান্ড। যাঃ শালা বলেই তো দিলাম মুখ ফসকে!!!

যাইহোক সংগম স্বর্গীয় সুখ হোক আর নরকীয়, হিন্দু মেয়েদের ডিমান্ড থাকুক আর না থাকুক, আর আপনারা বিশ্বাস করেন আর না ই বা করেন, তন্দ্রার সাথে আমার গত ৭ বছরে অনেকবার রুমডেট হলেও আমরা কিন্তু সেই স্বর্গীয় সুখ উপভোগ করিনি একটি বারের জন্যও ... না আমি নৃপুংশক নই, আবার আমি ধজভঙ্গতেও ভুগছি না, এবং আমি সাধু গোত্রীয় মানুষও নই। আমি হাজি বংশের ছেলেও না, তন্দ্রার বাবাও কোন পুরোহিত নয়। আমি রবিন্দ্রনাথের চাইতেও এমিনেমের গালিগালাজ পূর্ণ গান শুনতে বেশী ভালোবাসি, তন্দ্রাও ইমরান হাসমির ছবি দেখতে পছন্দ করে। আমি গডে বিশ্বাসী না, যখন যা মন চায় তখন তা ই করি। তারপরও গত সাত বছরে আমরা একবারের জন্য হলেও চেষ্টা করিনি ... পাগানদের ভাষায় যা হচ্ছে স্বর্গীয় সুখ, আর আপনাদের ভাষায় যা হচ্ছে 'নষ্টামি '...একটি বারের জন্যও না... আর ঠিক এরকমই ছিল আমাদের ৭ বছরের ভালবাসা। 'ছিল ' বলছি কারণ এখন আর তা অবশিষ্ট নেই।

আমি বাথরুমে ঢুকেছিলাম ভোর ৪ টা বাজার কিছুক্ষণ আগে... মুখ ধুয়ে শেষ বারের মতো নিজেকে আয়নায় দেখছিলাম ... দাড়ি গোফ বড় লাগছিলো খুব, উপরের ঠোঁট দেখতে পাচ্ছিলাম না, চুলগুলো ছিলো এলোমেলো .. তেল না দেওয়ার কারণেই কিনা জানি না, লালচে লালচে দেখাচ্ছিল ... আর চোখগুলোর নিচে কালো কালো দুটি ছোপ.. তারপরও খুব শান্ত ছিলো চোখজোড়া ... মানিব্যাগ থেকে ব্লেডটি বের করেছিলাম ঠিক তারপরেই.. ব্লেডের উপরে লেখা 'Sharp'। ব্লেডটা কিনেছিলাম রাত সাড়ে দশটায়। তন্দ্রাদের বাসায় যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে, বাস থেকে নেমেই। ব্লেড কিনার পর হাতে নিয়েই মনে হলো, ২২ বছরের জীবনে এইটাই হচ্ছে আমার কিনা প্রথম ব্লেড। আমি ব্লেডটা ম্যানিব্যাগের সাইড পকেটে রেখেই ফোন দিয়েছিলাম তন্দ্রার বাবাকে। রাত তখন বাজে ১০টা ২০.. আমি বললাম, "স্লামালাইকুম...আমি চান্দিনায় এসেছি"। কান্নাতাড়িত কন্ঠে নাক টানতে টানতে তিনি আমাকে বললেন, "কোথায় তুমি? "

- আমি পালকি সিনেমা হলের সামনে। আজকে অনেক রাত হয়ে গিয়েছে, আমি আগামীকাল সকালে আপনার সাথে দেখা করতে চাচ্ছি।

- রাতে কোথায় থাকবা তুমি?

- আমি আমার ব্যবস্থা করে নিয়েছি, আপনি এ বিষয়ে চিন্তিত না হলেও চলবে।

তিনি বিড় বিড় করে কি যেন বললেন, তারপর কলটি কেটে দিলেন। আমি আমার রাতের থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছিলাম .. বন্ধ করা একটি দোকানের শিকল দিয়ে বেধেঁ রাখা বেঞ্চের উপর। খুব ক্ষিধে লাগছিল তখন, সারাদিনে এক বেলা খেয়েছিলাম সেদিন। আর তার থেকেও বেশী লাগছিল পানির পিপাসা। দোকানের পাশেই একটি টিউবওয়েল ছিল, সম্ভবত সেই পানির আর্সেনিকের মাত্রা ১০ এর কাছাকাছি হবে। আমি মুখে দিতেই মনে হলো আমি লোহার গুড়া মিশানো পানি মুখে দিয়েছি। ঐ পানি দিয়ে হাত - মুখ ধুয়েই ঢক ঢক করে পানি খেতেই মোবাইল ২য় বারের জন্য বেজে উঠেছিল। এবার কল করেছে তন্দ্রা, যার কারণে আমার এতোদূর ছুটে আসা। যার প্রতিটি কথার পরের কথা আমি জানতাম কি হবে। যার কাছে গেলেই আমি একটি অদ্ভুত ঘ্রাণ পেতাম, চোখ বন্ধ করে বুঝার চেষ্টা করতাম ঘ্রাণটা কিসের .. যাকে একা পেলেই দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরতাম খুব জোড়ে, দম নাকি তার বন্ধ হয়ে আসতো তারপরও ছাড়তাম না... যে কিনা অন্য কোনো মেয়ের ফিগার দেখে আমার উত্তেজিত হবার কথা বলার আগেই আমার গালে কষে সবার সামনে থাপ্পড় দিয়ে দিত। আমি তখন আশপাশে কেউ দেখছে কিনা নিশ্চিত হয়ে অই মেয়ের ফিগারের বাকি আলাপটুকু নিরাপদ দুরত্ব থেকে শেষ করার চেষ্টা করতাম। যে কিনা তার মন মতো কথায় সায় না দিলেই 'থু 'করে একদলা থুতু দিয়ে দিত আমার মুখে অথবা গালে.. কোন কোন সময় আমার গায়ে আর মাঝে মাঝে আসেপাশে কেউ না থাকলে একেবারে আমার মুখের ভিতরে। আরো একজায়গায় থুতু অবশ্য দিয়ে দিত মাঝে মাঝে, তা আমি আর বলতে চাচ্ছি না। না হয় এই লেখা আবার রসময় গুপ্তের সাহিত্যে পরিণত হয়ে যাবার আশঙ্কা আছে। যাইহোক তার থাপ্পড়ের চাইতেও এই থুতু দেওয়ার ভয়ে আমি তটস্থ থাকতাম বেশিরভাগ সময় কিনবা অপেক্ষা করতাম ঠিক এটার জন্যই...

টিউবওয়েলর পানি মুখ থেকে মুছতে মুছতে ভাবছিলাম এই মেয়ে শেষ আমার গায়ে থুতু মেরেছিল ১৩ই নভেম্বর, আর আজ ১৭ই নভেম্বর ... ৫ দিন ... মাত্র ৫ দিনে আমার জীবনের সবথেকে সুন্দরতম অধ্যায় শেষ হয়ে যাচ্ছে ... মাত্র ৫ দিন ...আর এদিকে মোবাইল ভাইব্রেট করেই যাচ্ছে ...


TO BE CONTINUED ...

টপ ২০ বেস্ট অফ Poets of the Fall

অসাধারণ গিটার নির্ভর কিছু গান যদি মুগ্ধ চিত্তে শুনতে চান, তাহলে আমি বলবো আপনি সঠিক জায়গাতেই এসেছেন।

ফিনল্যান্ডের হেলসিনকি শহরের তিন যুবক ২০০৩ সালের দিকে 'Poets of the fall' নামে একটি ফিনিশ রক ব্যান্ড গঠন করে। এই তিনজনের একজন হচ্ছে মার্কো সারেস্তো। 'poets of the fall' এর লিড ভোকাল। যে কিনা তার মিউজিকের প্রতি ভালোবাসা থেকে নিজের জীবনের সব পুঞ্জি বিক্রি করে মিউজিকের সব ইন্সট্রুমেন্ট কিনে ব্যান্ডের অন্য সদস্যদের নিয়ে 'Poets of the fall' গঠন করে। তারা তাদের ছোট স্টুডিও বানায় দলের কির্বোডিষ্ট মার্কুস ক্যাপ্টেন করলিওনের লিভিং রুমে। আর তাদের অফিস বানায় দলের লিড গিটারিস্ট অলিস এর ভাঙ্গা গাড়িতে। ২০০৩ সালে সারেস্তোর এক বন্ধু সামি জার্ভি, যে কিনা Remedy Entertainment এ কাজ করতো, সারেস্তার হাতে একটি কবিতা ধরিয়ে দিয়ে বলেছিল গানে রূপান্তর করে দেওয়ার জন্য। সারেস্তা করেছিলও তাই। আর সেই গানটিই ব্যাবহারিত হয়েছিল Remedy Entertainment এর নিবেদিত ভিডিও গেম 'Max Payne 2: The fall of Max Payne' এ। গানটি ছিল 'Late Goodbye'। আপনারা যারা ম্যাক্স পেইন ২ খেলেছেন তারা অবশ্যই গানটি শুনে থাকবেন। গানটি ছিলো গেমের Ending song হিসেবে। ওদের এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০৫ সালে 3dmark এর আন্ডারে রিলিজ হউয়া Lift গানটি 'Late Goodbye' থেকেও বেশী জনপ্রিয় হয়। তাদের এই পর্যন্ত ৪ টি এলভ্যাম রিলিজ হয়েছে। তাদের প্রত্যেকটি গানই অসাধারণ। এই চারটি এলভ্যাম থেকে তাদের সেরা ২০ টি গানের ডাউনলোড লিন্ক আপনি নিচে ক্রমানুসারে পাবেন। আশা করি সব শ্রেণীর দর্শকদেরই ভালো লাগবে।

Top 20 songs of 'Poets of the fall'

Carnival of Rust

Click This Link

Cradled in Love

Click This Link

Late Goodbye

66.90.118.45/ost/max-payne-2-original-soundtrack-game-rip-/iostwfmxfw/09-late-goodbye.mp3

Lift

keskiespoo.net/~salonn/mp3/01-potf-lift-it.mp3


Poets of the Fall - Locking Up The Sun


Click This Link


FIRE - POETS OF THE FALL


cool-sound.eu/MP3/ENGLISH/FIRE%20-%20POETS%20OF%20THE%20FALL.mp3


Gravity


n1.vmuzike.net/a/poets_of_the_fall/carnival_of_rust/Gravity


Poets of the Fall – Overboard


n1.vmuzike.net/a/poets_of_the_fall/signs_of_life/Overboard

Poets of the Fall – Roses


n1.vmuzike.net/a/poets_of_the_fall/carnival_of_rust/Roses


Poets of the Fall - Illusion & Dream


n1.vmuzike.net/a/poets_of_the_fall/signs_of_life/11_Illusion_&_Dream


Poets Of The Fall – Sleep

Click This Link


Poets of the Fall - All the Way \ 4U mp3


dc266.4shared.com/img/1186727124/6fbfecda/dlink__2Fdownload_2FUcVLYOn7_3Ftsid_3D20130104-104545-d9821a5/preview.mp3


Poets of the Fall - Given and Denied


n1.vmuzike.net/a/poets_of_the_fall/twilight_theater_v0/Given_and_Denied


Poets of the Fall – War


Click This Link


Poets Of The Fall - Where Do We Draw The Line


Click This Link


Dreaming Wide Awake


dc402.4shared.com/img/1622695677/99e5208d/dlink__2Fdownload_2Fk6xra2ii_3Ftsid_3D20130104-110103-583da030/preview.mp3


Someone Special


n1.vmuzike.net/a/poets_of_the_fall/signs_of_life/Someone_Special


Temple of Thought


download-6.muzsait.ru/16-03-12/poets_of_the_fall_-_temple_of_thought.mp3


Maybe Tomorrow Is a Better Day


n1.vmuzike.net/a/poets_of_the_fall/maybe_tomorrow_is_a_better_day/Maybe_Tomorrow_is_a_Better_Day


Skin


freshmp3music.ru/music/03.2012/Poets_Of_The_Fall_-_Skin_(http://www.freshmp3music.ru).mp3


The Beautiful Ones


dc354.4shared.com/img/1005533942/d429b556/dlink__2Fdownload_2Fm9ErWBvT_3Ftsid_3D20130104-110758-658a74f0/preview.mp3

দাগ...

শ্রধ্যেয় জনাব,
পত্রের শুরুতেই আমার নমষ্কার জ্ঞাপন করছি। আমি জানি না আমার পত্র আপনি 'বেয়াদবী 'হিসেবে নিচ্ছেন কিনা। তবে আমি আপনার প্রতি আমার অপরিসীম শ্রদ্ধা নিয়ে লিখতে বসেছি।
আমি জানি আমার প্রতি আপনার প্রচন্ড ক্ষোভ রয়েছে। থাকাটাই স্বাভাবিক। আমি আপনার জায়গায় থাকলে আমারও থাকতো। তবে আমি এটাও জানি, আমার থেকে বেশী ক্ষোভ আপনি আপনার মেয়ের প্রতি রয়েছে। সেই ছোট বেলা থেকে আপনি যাকে এতো বড় করেছেন তার প্রতি আপনার ভালোবাসার অধিকার যেমন আছে, তেমনি ক্ষোভ পোষণ করারও। আমি জানি আমরা যেই কাজটি আপনাদের অগোচরে ৬ টি বছর ধরে করে এসেছিলাম তা আপনার মনে একটি বড়সর দাগ কেটেছে। আপনার এই দাগের কথা বুঝতে পেরেই কিন্তু আপনার মেয়ে তা মুছার জন্য আমার সাথে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। আপনার দাগের কথা ভেবেই কিন্তু সে আমার কাছে আসার বদলে ফিরে গিয়েছে আপনাদের কাছেই। শুধুমাত্র আপনার মুখের দিকে তাকিয়ে সে চুপচাপ সব মেনে নিয়েছে। আজ যদি সে আজ আপনাদের কথা না ভেবে আমার কাছে চলে আসতো, সে কোনোদিনই হয়তোবা নিজেকে ক্ষমা করতে পারতো না। আপনি কি পারবেন, আপনাকে ক্ষমা করতে? আপনি হয়তো ভাবছেন, আপনি কেন ক্ষমা চাইবেন নিজের কাছে, আপনি কি করেছেন! আপনি হয়তোবা কখনোই ধরতে পারবেন না আপনার দাগ মুছতে যেয়ে সবার অগোচরে যে আপনার মেয়ের ভিতরে একটি বড়সড় দাগ কেটে যাচ্ছে দিন দিন। ও যতদিন বেচেঁ থাকবে ততদিনই এই দাগটি তার সাথে থাকবে। আপনি যদি কখনো ওকে ভালোভাবে লক্ষ্য করেন আপনি সেই দাগটি অস্পষ্টভাবে দেখতে পারবেন। আমি জানি ঠিক সেই মূহুর্তে আপনি সেই দাগের ব্যথা কিছুটা হলেও বুঝতে পারবেন। আপনি সেই ব্যথাটি সহ্য করতে পারবেন কিনা জানিনা ... কিন্তু এই ব্যাথাটাই আপনার মেয়েকে তার বাকিটা জীবন হাসি মুখে সহ্য করে যেতে হবে। আপনার মেয়ে প্রায়ই আমাকে বলতো আপনার কথা। আপনার সাথে তার ছোটবেলার হুন্ডায় চড়ার কথা, কিনবা ওই দিনটির কথা যেদিন আপনি ওকে মেলায় নিয়ে গিয়েছিলেন। ও যখন ওইসব কথা বলতো, ও থামতেই চাইতোনা ... ওর চোখে মুখে আমি সেই সময়ের অনূভুতিগুলো দেখতে পেতাম। ও আপনাকে ভীষণ ভালবাসে... যেই ভালবাসা থেকে ও হয়তো নিজের সবকিছুই বিলিয়ে দিতে পারে.. কিন্তু ওর একটি ভুলের জন্য তা হয়তো আপনার কখনোই চোখে পড়বে না ... চোখে পড়বে তার ভিতরের দাগটিও। কারণ আপনার দাঁড়িপাল্লায় আপনার মান সন্মান এর ওজন অনেক বেশী। যেই ওজনের চাপে একটা দাগ কিছুই না।
প্রাচীন সময়কাল থেকে আজকের বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে ৭ টি পাপের কথা বলা হয়েছে। যেসব পাপের ফল নাকি মানুষরা ইহলোকেই ভোগ করে থাকে। সেই ৭ টি পাপের একটি হচ্ছে 'Pride', যার অর্থ হচ্ছে অহংকার বা আত্মাভিমান। আর আত্মাভিমানের জন্ম হয় 'মান সন্মান ' হারানোর ভয় থেকে। আমি জানিনা আপনি কত বছর বাঁচবেন, বা আমি কত বছর বাঁচবো। তবে আমার দেখার খুব ইচ্ছা আপনি মৃত্যুর ঠিক আগ মূহুর্তে আপনার মেয়ের দিকে তাকিয়ে কি চিন্তা করেন। আমি জানি আপনার মেয়ে সেদিন মন খুলে দৃঢ় চিত্তে কাদতেঁ পারবে এই ভেবে যে, সে আপনার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপনার প্রতিটি ইচ্ছার, প্রতিটি কথার, প্রতিটি আবেগের গুরুত্ব দিয়েছে। এই ভেবে আপনিও হয়তোবা একজন স্বার্থপরের মতো হাসিমুখে মৃত্যুবরণ করতে পারেন, অথবা একটি সূক্ষ দুঃখ নিয়ে ... আর যদি আপনার মেয়ের মৃত্যু আগে হয়, সেদিনও সে দৃঢ় চিত্তে মৃত্যুকে এই ভেবে গ্রহণ করতে পারবে যে, সে কোনোদিনও আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করেনি। আর আপনি সেদিনও খুতখুত মনে দাড়িয়ে থাকবেন তার পাশে ... চেষ্টা করবেন আপনার খুতখুতের বিষয়টা ধরার জন্য। আমি আপনার যায়গায় থাকলে চেষ্টা করতাম, তার চিতার আগুন থেকে তার দাগটাকে খুজেঁ বের করার। যেই দাগ একটি মেয়ে তার বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আঁকড়ে ধরে রেখেছিল হাসিমুখে। কাউকেই বুঝতে দেইনি কখনো ... কাউকেই না...
.............................
তন্দ্রা তোমার মতো একটি মেয়ের সাথে আমার ৬ বছর সম্পর্ক ছিল এটি ভাবতেও আমার গর্ব হয়। তোমার প্রতিটি ইচ্ছা আমি অবশ্যই পূরণের চেষ্টা করবো। আমি কখনোই থেমে যাবো না মাঝ পথে ... কখনোই না...

শতাব্দীর সেরা কিছু কান্ট্রি সং আর সফটকোড় গানের একটি অসম্পূর্ণ তালিকা

আমি এমিনেমের ডাইহার্ড ভক্ত। তার মানে এই না যে আমি সফটকোড় গান শুনি না। অবশ্যই শুনি, এতো বেশী শুনি যে ... আমার অদম্য ইচ্ছা, মৃত্যু আগে যেন নিচের গানগুলো একবার করে হলেও শুনে যেতে পারি। গানগুলো এতোবেশী শ্রুতিমধুর যে আপনি একটানা তিন চারটে শোনার পর পরই হয়তো ঘুমিয়ে যেতে পারেন। আমি অবশ্য প্রতি রাতে এমিনেমের চিল্লাচিল্লি শুনতে শুনতেই আরামের ঘুম দেই। এই জন্যই হয়তোবা বেশির ভাগ রাতেই দুঃস্বপ্ন দেখি :p। দেখি একজনকে দা হাতে নিয়ে কুপিয়ে মারার জন্য দৌড়াচ্ছি। যাইহোক আপনাদের নিচের গানগুলো ভালো লাগবেই লাগবে। আর না লাগলে কান কাইট্টা ফালায়া দিবো...

পুনশ্চঃ গানগুলোর ডাউনলোড লিন্ক ব্রোকেন দেখালে পোস্টটির একেবারে নিচ থেকে ওয়ার্ড ফাইলটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। ওখানে আশা করি সব লিন্ক গুলোকে সুস্থ অবস্থায় পাবেন।
.......................................................................
.......................................................................
1 Leaving on a jet plane - John Denver
link: Click This Link

2 I can't take my eyes - Damien Rice
link: Click This Link

3 Goodbye My Lover - James Blunt
Link: Click This Link

4 Fix You - Coldplay
Link: Click This Link

5 Right Here Waiting - Richard Marx
Link: Click This Link

6 You are Beautiful - James Blunt
Link: Click This Link

7 Wild Montana Skies - John Denver
Link: Click This Link

8 Truly Madly Deeply - Savage Garden
Link : Click This Link

9 We Belong Together - Maria Carey
Link : Click This Link

10 Where Do We Draw The Line - Poets of The Fall
Link : Click This Link

11 Marry Me - Train
Link: Click This Link

12 You've Got a Friend in Me - Lyle Lovette & Randy Newman
Link: Click This Link

13 Make you feel my love - Adele
Link : Click This Link

14 Vanilla Twilight - Owl City
Link: Click This Link

15 Somewhere Over the Rainbow
Link: Click This Link

16 I'll Be Missing You - Puff Daddy & Faith Evans
Link : Click This Link

17 Smooth Operator - Sade
Link: Click This Link

18 The Sign - Ace of Base
Link: Click This Link) - Ace Of Base - The Sign.mp3

19 Private Emotion - Ricky Martin
Link: Click This Link

20 No Ordinary Love - Sade
Link: Click This Link

21 The Moon & the sky - Sade
Link: Click This Link

22 Macarena - Los Del Rios
Link: Click This Link

23 Leaving on a jet plane - Chantal Kreviazuk
Link: Click This Link

24 Alaska & me
Link:

25 By Your Side - Sade
Link: Click This Link

26 Chasing Pavement - Adele
Link: Click This Link

27 Lovely Day - BILL WITHERS
Link: Click This Link

28 Candle in the wind - Elton John
Link : Click This Link

29 Un-Break My Heart - Toni Braxton
Link : Click This Link

30 End of The Road - Boyz II Men
Link : Click This Link) - Boyz II Men - End Of The Road.mp3

31 Endless Love - Diana Rose & Lionel Richie
Link : Click This Link) - Diana Ross & Lionel Richie - Endless Love.mp3

32 Hey Jude - The Beatles
Link : Click This Link) - The Beatles - Hey Jude.mp3

33 How Do I Live - Leann Rimes
Links : Click This Link

34 I Just Can't Stop Loving You - Michael Jackson
Link : Click This Link

35 I Swear - All 4 One
Link : Click This Link) - All 4 One - I Swear.mp3

36 I Will Always Love You - Whitney Houston
Link : Click This Link) - Whitney Houston - I Will Always Love You.mp3

37 If Tomorrow Never Comes - Garth Brooks
Link : http://ysbaer.li/garth.mp3

38 I'll Make Love To You (Motown) - Boyz II Men
Link : Click This Link

39 Mack The Knife - Bobby Darin
Link : Click This Link) - Bobby Darin - Mack The Knife.mp3

40 On Bended Knee - Boyz II Men
Link : Click This Link

41 Physical - Olivia Newton John
Link : Click This Link) - Olivia Newton John - Lets Get Physical.mp3

42 Sailing Away - Chris De Burgh
Link :

43 The Twest - Chubby Checker
Link : Click This Link) - Chubby Checker - The twist.mp3
.................................................................
.................................................................
সামুকে মাঝে মাঝে কড়া গালি দিতে ইচ্ছে করে। মনে মনে অবশ্য প্রচুর গালি দেই। গালি দেই কারণ লিন্ক পোস্ট করলে তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্রোকেন দেখায়। উপরের গানগুলোর বেশির ভাগ লিন্ক ব্রোকেন দেখাচ্ছে। তাই আপনারা চাইলে নিচের লিন্ক থেকে গানগুলোর ওয়ার্ড ফাইলটা ডাউনলোড করে নিতে পারেন। আল্লায় জানে নিচের লিঙ্কটাও ব্রোকেন দেখায় কিনা।
.......................................................................
.......................................................................
ডাউনলোড লিন্ক : http://db.tt/Y3ApIca2
.......................................................................
.......................................................................
অর্ধশত গান পোস্ট করার ইচ্ছে ছিলো, কিন্তু পারলুম না। বেচেঁ থাকলে পড়ে আপডেট করবো। আজকের মতো বিদায়, আবার হয়তোবা দেখা হবে যদিকিনা আমরা একই পথে থািমকি... সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন ...

Tuesday, January 22, 2013

এপয়েন্টমেন্ট লেটার

আমার হাতে এখন আমার প্রথম চাকরির এপয়েন্টমেন্ট লেটার। মামা, চাচা, খালু বা কোনো লিংকের জোড়ে নয়, বরং নিজের যোগ্যতায় পাওয়া প্রথম চাকরির এপয়েন্টমেন্ট লেটার। আমি আমার লাইফে এই পর্যন্ত একটি ইন্টারভিউই দিয়েছি। এবং প্রথম ইন্টারভিউতেই আমার চাকরিটা হয়েছে। আমি জানি না, এরকম ভাগ্য নিয়ে সবাই পৃথিবীতে আসে কিনা। তবে আমি এসেছি ... এই সৌভাগ্য কয়জনের হয় আমার জানা নেই। তবে আমি সত্যিই সৌভাগ্যবান। হয়তোবা অনেকের দোয়া আছে আমার উপর, কিন্তু আমি ওসব বিশ্বাস করি না। আমি আমার জীবনে এমন কিছুই করিনি যে এতোটাই দোয়া পাবো।

এই চাকরিটার জন্য আমার মোট দুইবার ইন্টার্ভিউ দিতে হয়েছে। ভার্সিটির জব ফেয়ারের শেষ দিন আমি জানতে পারলাম, ২৫ টার মতো নামিদামী কোম্পানি এসেছে। সেদিনই ছিলো সিভি জমা দেওয়ার শেষ দিন। আর তখনো আমার নিজস্ব কোন সিভি বানানো ছিলো না। আমি আসলে জানতামই না, ভার্সিটিতে যে জব ফেয়ার চলছে। যখন জানতে পারলাম, তখন বাজছিল ১১.৩০। সিভি জমা দেওয়ার শেষ সময় বিকাল ৪ টা। আমার সদ্য ফরমাল ড্রেসে পড়া কোন ছবি তোলা ছিলো না, যে দুই কপি তোলা আছে তা ইন্টার পাস করার পর টি -শার্ট পড়া অবস্থায় তোলা। আর তা ও সাথে নেই, আছে বোনের বাসায়। সিভিও করা নেই। ১২ থেকে ৩ টা পর্যন্ত ক্লাস। আর রগ কাটার কারণে বাম হাত প্লাস্টার করা অবস্থায় গলায় ঝুলানো....

আমি আমার সিভি তৌরি করেছিলাম ৪ টা বাজার ৪০ মিনিট আগে ... টি শার্ট পড়ে তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি সংবলিত ২৫ কপি সিভি প্রিন্ট করতে করতে বেজে গিয়েছিল ৩ টা ৫০। তারপর প্লাস্টার করা হাত নিয়ে দৌড় ... পিছন থেকে শুনলাম কে যেন বলে উঠলো, "Run Forest, Run..." মনের ভুলও হতে পারে ...

দেড়িতে সিভি জমা দেওয়ার কারণে হোক, CGPA কম থাকার কারণে হোক, বা টি শার্ট পড়ে তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবির থাকার কারণেই হোক ... আমাকে মাত্র একটি কম্পানি থেকে কল করা হলো। বলা হলো তারপরের দিন ইন্টার্ভিউ। আমি ডাক্তারের নিষেধ থাকা স্বত্বেও প্লাস্টার খুলে গিয়েছিলাম ইন্টার্ভিউতে। বাম হাত নাড়াচাড়া করতে পারছিলাম না রগ টান খাওয়ার কারণে। তারপরও তিন ঘন্টা চুপচাপ বসে ছিলাম প্রথম ইন্টার্ভিউ দেওয়ার জন্য ... বা চাকরিটা পাবার আশায় ...

ঐ কোম্পানি আমাদের ভার্সিটি থেকে মাত্র ৮ জন সিলেক্ট করেছিল প্রথম ইন্টার্ভিউয়ের জন্য। এক এক জনের ইন্টার্ভিউ নিচ্ছিল ১৫ মিনিট করে। আমি ছিলাম সবার শেষে .. আমিও দিয়েছিলাম... আমাকে ইন্টারভিউ শেষে বলা হয়েছিল, "আরেকটা ফাইনাল ইন্টার্ভিউয়ের জন্য হয়তোবা আপনাকে ডাকা হতে পারে, আপনি আসতে পারবেন তো? "
আমি বলেছিলাম, "অবশ্যই স্যার, আমি আপনাদের কলের অপেক্ষায় থাকবো "
আমি অপেক্ষায় থাকিনি। ১৫ দিনের মতো অপেক্ষায় থাকার পর আমি হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম একেবারেই। বাপের পরিচয়ের লিঙ্ক ধরে ঔষুধ কোম্পানিতে ঢুকার একটা অফারও পেয়েছিলাম। মন একেবারেই টানছিল না, কিন্তু সবার একটাই কথা .."এই যুগে লিংক ছাড়া চাকরি প্রধানমন্ত্রীও নাকি পায় না "। আর আমি কোন ... ... আবদুল্লাহ?

প্রথম ইন্টার্ভিউয়ের ঠিক এক মাস ৫ দিন পর ১৪ তারিখ সন্ধ্যায় সেই অনাকাঙ্ক্ষিত কলটি এসেছিল। আমাকে বলা হলো, ১৬ তারিখ ফাইনাল ইন্টার্ভউয়ের জন্য আমাকে সিলেক্ট করা হয়েছে। ইন্টার্ভিউয়ের দিন যেয়ে দেখলাম ৪ টা টপ অর্ডারের ভার্সিটি থেকে মাত্র ৯ জনের মতো সিলেক্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪ জন শুধুমাত্র আমাদের ভার্সিটিরই!! গর্ব করার মতোই জিনিস, তবে গর্ভের চাইতে যেটা বেশী কাজ করছিল, সেটা হলো 'ভয় '। কারণ বাকি তিন জনের মধ্যে ২ জনই আমার পরিচিত ছিলো। একজনের সিজিপিএ ছিলো ৩.৫ এর উপরে আর একজন ছিল এক স্যারের টি.এ। আর একজন যে ছিল, সে ছিল 'রেডিও আমার' এর প্রাক্তন R.J.। আর আমি আবুল T.A ও ছিলাম না, আবার R.J ও না। আর আমার সিজিপিএ না হয় আপনাদের না ই বললাম। শুধু এতোটুকু বলি তাদের তুলনায় অনেক অনেক কম। কিন্তু আমার একটি জিনিস হয়তোবা তাদের চাইতে অনেক বেশী ছিলো, আর তা হচ্ছে 'আত্মবিশ্বাস '। আর আজকে হয়তো সেই আত্মবিশ্বাসের কারণেই আমার হাতে আমার প্রথম চাকরির এপয়েন্টমেন্ট লেটার .... কিংবা তথাকথিত ভাগ্যের জোড়ে।

সামনের মাসের ২ তারিখে আমার জয়েনিং ডেট। আপনাদের কাছ দোয়া চাই। চাকরিতে টিকে থাকার দোয়া না, বরং আত্মবিশ্বাস থেকে যেন কখনো ছিটকে না যাই তার দোয়া।

Wednesday, January 9, 2013

আকাংখা...

আমি কিছুদিন আগে হাস পাপিস থেকে একজোড়া স্যান্ডেল কিনেছি, দাম নিয়েছে মাত্র ৫৯৯০ টাকা। ২ ঘন্টা ধরে খুত খুত মনে ঘুরাঘুরি করে এই স্যান্ডেল জোড়াই পছন্দ হয়েছিল। আর হবেই বা না কেন, Hush Puppies বলে কথা!! বিল ক্লিনটনের মাই লাইফ অটোবায়োগ্রাফিতে পরেছিলাম বিল ক্লিন্টনের Hush Puppies এর জুতার প্রতি দূর্বলতার কথা। আর সেই একই ব্রান্ডের স্যান্ডেল এর প্রতি আমার যে কোন প্রকার দূর্বলতা থাকবে না তা বললে ভুল বলা হবে। আমার ধারণা সবারই থাকে... আমার বাবারও ছিল... এক জোড়া স্যান্ডেল এর প্রতি দূর্বলতা ...

আমার দাদি যখন মারা যায় ২০০৪ সালে আমরা তখন কুমিল্লায় থাকতাম। আর আমার দাদী ছিল চাদপুরে, আমাদের দেশের বাড়িতে। আমার তখন ২য় সাময়িক পরীক্ষা চলছিল। পরদিন ছিল ধর্ম পরীক্ষা। পরীক্ষা বাদ দিয়ে সেদিন রাতের বেলাতেই আমার মা আমাকে আর আমার বোনকে নিয়ে চাদপুরের উদেশ্যে রওনা হয়েছিল। আমরা আমাদের দাদীকে 'দিদা ' বলে ডাকতাম। বাসে বসে দিদার কথা খুব করে মনে করার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু তেমন কিছুই মনে পড়ছিল না। শুধুমাত্র ঈদের বন্ধের সময়ই বাড়িতে যাওয়া হত বলেই মনে হয় তার কোন স্মৃতি আমার মাথায় সেভাবে গেথে যায়নি, শুধুমাত্র একটা স্মৃতি ছাড়া ... সেই স্মৃতিটাই বার বার তাড়া দিচ্ছিল মাথার ভিতরে ... ঠিক যেমন আজ দিচ্ছে ...

আমাদের দিদা আমাকে আর আমার বোনকে পেলে আমার বাবার ছোটবেলার একটা ঘটনা প্রায়শই বলতেন আর ঘটনা একটা পর্যায়ে এস ঢুকরে কেঁদে উঠতেন। আমার বাবা তখন নাকি প্রাইমারীতে পড়তেন। খালি পায়ে স্কুলে হেটে যেয়ে ক্লাস করতেন, একজোড়া জুতা ছিল না বিধায়। একদিন বাজারে একজোড়া স্পঞ্জের স্যান্ডেল দেখে নাকি বাবার চোখজোড়া চক চক করে উঠেছিল। বাসায় আরো ৭ ভাইবোনের মধ্যে বড় আমার বাবা সেদিন অভাবের সংসার দেখে কাউকেই বলার সাহস পায়নি। একদিন সাহস করে আমার দিদার কাছে স্পঞ্জের স্যন্ডেলজোড়ার কথা বলতেই দিদা বলেছিলেন বাবার বড় চাচার কাছ থেকে চেয়ে দেখতে, তিনি হয়তো না করবে না। আমার বাবাও সংশয় নিয়ে বলেছিলেন তার চাচাকে। মুখ ফুটে বলা মাত্র উনার চাচা আমার বাবাকে বলেছিলেন, "বাপ ডাক, তাহলে কিনে দিব "। আমার প্রাইমারি পড়ুয়া বাবা কিছুই না বলে খালি পায়ে দৌড়াতে দৌড়াতে আবার ছুটে গিয়েছিলেন আমার দিদার কাছে। যেয়ে কিছুই না বলে বসে ছিলেন মুখ গোমড়া করে। দিদা কারণ জিজ্ঞাসা করতেই খুলে বলেছিলেন চাচার কথা। দিদা দুষ্টামি ধরতে পেরেই বাবাকে বলেছিলেন উনার দুষ্টামীর কথা, আর সাথে অনুমতিও দিয়েছিলেন যা বলতে বলেছিলেন তা বলার জন্য।
আমার স্পষ্ট মনে আছে, আমার দিদা ঠিক এই পর্যন্ত এসেই কেঁদে দিতেন বাচ্চাদের মতো .. তারপর সেই কান্নামিশ্রিত কণ্ঠে বলতেন আমার বাবার একজোড়া শখের স্পঞ্জের স্যান্ডেল পাওয়ার বাকি অংশটুকু ...

আমার বাবা সেদিন স্পঞ্জের স্যান্ডেল জোড়া ঠিকই বাসায় নিয়ে এসেছিলেন। তবে তা পায়ে দিয়ে না ... কাগজে মুড়ে বগলের তলায় শক্ত করে রেখে... যাতে নষ্ট না হয়ে যায়।

আমার বাবা একসময় সফল ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আজ পর্যন্ত ৬০০০ টাকার স্যান্ডেল পড়েননি। আমি আজ পড়লাম। হয়তোবা যেদিন আমার বাবার মৃত্যু হবে সেদিনও পড়বো এই স্যান্ডেলগুলো। তারপরও হয়তোবা আমার বাবার মতো কখনোই হতে পারবো না...

Monday, September 10, 2012

মুখার্জি পরিবার ও আমাদের পরিবারের ঐক্যবদ্ধতা

"প্রতিমা মুখার্জিকে ঠকিয়ে মুখার্জি বাড়ির মেয়ে হয়েছি, আদিত্ত বাবুকে ভালাবাসার অভিনয় করে আমি রায় চৌধুরী বাড়ির বউ হয়েছি..."

এই কথাটি আমার না, এটা হচ্ছে ফুলকির কথা, যে কিনা একটু আগে ঝিলিককে বলল। ফুলকির মুখে এতবড় কথা আমাদের বাসার সবাই অবাক!! আমার বাবা অস্ফুট স্বরে বলে উঠলো, "ঝিলিকের মা আসে না কেন? "... ফুলকি একনাগাড়ে প্রমিত শুদ্ধ ভাষায় গালাগাল করে যাচ্ছে ঝিলিক কে... আমাদের বাসার সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ঝিলিক আর ফুলকির দিকে! ওদের এসব কান্ডকারখানা দেখে আমার বাসার সবাই খুব চিন্তিত ... লিখতে লিখতে কাহিনী অনেকদূর এগিয়ে গেছে, ঝিলিক -ফুলকিদের বাসার সবাই ঘটনাস্থলে হাজির, ফুলকির মা (আসলে ঝিলিকের মা) আড়াল থেকে এসব কঠিন সত্য শুনে 'মা কালীর 'দিব্যি হারিয়ে পাগলপ্রায়, তাই এলোমেলো পায়ে রাস্তায় চলে গেল... রায় চৌধুরী বাড়ীর সবাই এই ক্যাচাল শুনে ঘটনাস্থলে হাজির, ঠাম্মা, জেডিমা, মাসী, পিশি সব একলগে হাজির ... ফুলকি বলছে "ঠাম্মা, বিশ্বাস কর সব দোষ ঝিলিকের, ওর কথা শুনে মা রাস্তায় চলে গিয়েছে "। আর ঝিলিক বলছে, "বিশ্বাস কর ঠাম্মা, আমি কি..কিছু ক..রি..নি "...... ঘটনা টান টান উত্তেজনার দিকে যাচ্ছে, বাসার সবার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে... টিভি স্ক্রিনের দিকে...

মার কাছে কাহিনীর সারসংক্ষেপ জিজ্ঞাসা করতেই বিরতির ফাকে একগাদা যা বলল তার সারাংশ হচ্ছে, আজ রাতে নাকি ফুলকি ধরা খাবে সবার কাছে যে, ফুলকি ওদের আসল মেয়ে না হয়েও সম্পত্তি পাবার লোভে চাল চেলে যাচ্ছে। আজকের এপিসডের জন্য আমাদের বাসার সবাই দীর্ঘ ২ সপ্তাহ অপেক্ষা করেছে ... অপেক্ষা করেছে আমার বোন, অপেক্ষা করেছে বোনের ৬ বছর বয়েসী মেয়ে, অপেক্ষা করেছে আমার মা আর আমার রিটায়ার্ড বাবা এবং আমাদের বাসার কাজের মেয়ে।

জ্বী হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন, আমার উচ্চশিক্ষিত বাবাও 'মা ' সিরিয়ালের একজন বয়স্ক কাস্টমার। দিনের কিছুটা সময় হলেও তিনি মুখার্জি পরিবারের একজন সদস্য হয়ে যায়।যদি আমি ওদের সাথে আর কিছুদিন থাকি আমিও হয়তোবা দুদিন পর হয়ে যাবো। কারণ আমি ব্লগে ছিলাম, ওদের এতো আগ্রহ দেখে ব্লগ পড়া ছেড়ে 'ফুলকি -ঝিলিক ' নামা দেখা শুরু করেছিলাম, আর লিখছিলাম।

সিরিয়াল শেষ, সবাই যে যার স্টাইলে ফিরে গিয়েছে ... বাবা পড়ছে পেপার, বোন বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছে, বোনের মেয়ে তার পুতুল 'তিতাস'কে জামা পড়াচ্ছে, আর আমি লিখছি ব্লগ। কিছুটা খারাপ লাগছে ... সবাই এতক্ষণ একসাথে ছিলাম, এখন সবাই যে যার কাজে ... আবার হয়তোবা ওরা সবাই একত্রিত হবে রাত সারে আট্টায়, কিন্তু আমি থাকবো না... চলে যাবো ঢাকায়, লম্বা ছুটি শেষ করে আগামীকাল।