Friday, August 2, 2013

একজন সেলিম স্যার...ও আমার চতুরঙ্গ আসক্তি

আমি দাবা খেলতে অসম্ভব ভালোবাসি, তবে তা অবশ্যই আমার থেকে ভালো প্লেয়ারদের সাথে। অনেক কিছু শিখা যায় দাবা খেলার প্রতিটা চালে। তবে যতোটা না শিখা যায়, তার থেকে বেশী বুঝা যায় অপর পাশে থাকা মানুষটি সম্পর্কে। তার দৈনন্দিন জীবণের চাল চলন, অভ্যাস, স্ট্রেস নেওয়ার ক্ষমতা, স্ট্রেস দেওয়ার ক্ষমতা, টেম্পার লেভেল... আরো অনেক কিছুই বুঝা যায়,  যদি কিনা আপনি একটু ভালোভাবে খেয়াল করেন।

আমি অনেক দিন হলো ‘সত্যিকার অর্থে’ দাবা খেলি না। ‘সতিক্যার অর্থে’ বলতে বুঝিয়েছি ‘সত্যিকার অর্থে’, অর্থাৎ ৩২ টি দাবার ঘুটি আর একটি দাবার বোর্ড নিয়ে আমার এখন খেলতে বসা হয়ে উঠে না আর। হয়ে উঠে না কারণ খেলার মতো কোনো পার্টনার খুজে পাই না আর। তবে আমার খেলার প্রচন্ড ইচ্ছে সব সময়ই করে, এবং আমি খেলিও। কিভাবে খেলি তার ব্যাখ্যা পরে করি, আগে বলি আমার দাবার প্রতি আসক্তির কথা। আমি দাবার প্রতি এতটাই আসক্ত যে, প্রতিদিন রাতে অফিস থেকে কাওরান বাজার রেললাইন ধরে হেটে আসার সময় দেখি একজোড়া মধ্যবয়সী খেটে খাওয়া দিনমুজুরেরা দাবা খেলতেছে... আর আমিও প্রতিদিন ঐ যায়গাতে এসে দাঁড়িয়ে যাই। আশ পাশের ভিড় ঠেলে কোনো রকমে দেখার চেষ্টা করি কার কি অবস্থান। তার থেকেও বেশী দেখি তাদের এক্সপ্রেশন। ওদের এক্সপ্রেশন গুলো হয় একেবারেই প্রাকৃতিক, যখন যা অনূভব করছে তা ই প্রকাশ করছে গালিতে, মাঝে মাঝে নিজের উপর জেদ করে, মাঝে মাঝে দাবার গুটির উপর জেদ করে, আর বেশীরভাগ সময় প্রতিপক্ষের উপর জেদ করে। তবে খেয়াল করার মতো বিষয় হচ্ছে, এই ধরণের এক্সপ্রেশন আপনি শিক্ষিতদের খেলার সময় দেখবেন না। তাই আমি শিক্ষিতদের খেলা দেখিও না। নিজের ভিতরে আটকিয়ে রাখা অভিব্যাক্তি জোড় করে খুঁজতে যাওয়ার কোনো মানে আমি দেখি না। তাই খুঁজতে যাইও না। আমি দেখি আমার মতো নিন্মবিত্তের দাবা খেলা... ততোক্ষণ, যতক্ষণ না আমার ঘড়ি আমাকে জানান দেয় বাসায় যাওয়ার জন্য।

আবার কেউ যদি আমাকে রাত ২ টার দিকে গভীর ঘুম থেকে তুলে বলে দাবা খেলার জন্য... আমি কোনো কথা না বাড়িয়ে চোখ ধুয়ে দাবার বোর্ড সাজানো শুরু করবো। তবে শর্ত একটাই, আর তা হচ্ছে প্রতিপক্ষ হতে হবে রক্ত মাংসের মানুষ। কোনো AI হলে চলবে না। কারণ আমি কম্পিউটারের সাথে খেলে কখনোই মজা পাই না, তাই খেলিও না। কারণ কম্পিউটারের সাথে খেলার সময় আমি প্রতিপক্ষের অভিব্যাক্তি দেখার কোনো সুযোগ পাই না। একজন প্রতিপক্ষ যে সে ঘোড়া হারলে কি রকম অনূভব করে, বা একটা রথ হারালে কি রকম অনূভব করে, তা ই যদি দেখতে না পারি তাহলে সেই দাবা খেলা আর সাপ লুডু খেলার মধ্যে আমি কোনো পার্থক্য দেখি না। খেলতে হবে টান টান উত্তেজনায়... প্রতিপক্ষের শুধু পূর্ববর্তী চাল দেখেই নয়, বরং প্রতিপক্ষের চোখ এবং অভিব্যাক্তি দেখে বুঝতে হবে তার পরবর্তী চাল কি হতে যাচ্ছে। আর তা আপনি বুঝতে পারবেন একজন প্রতিপক্ষের প্রতিটা চালের সময়, ধরণ, স্ট্রেটেজি এবং বিভিন্ন গুটির প্রতি তার ভালোবাসা দেখে আপনি খুব সহজে বুঝতে পারবেন সে কি রকম, তার কি রকমের গান পছন্দ, সে কি রকমের খাদ্যভাষে অভস্থ্য, এবং সে কি প্রকৃতির মানুষ। আমি ফাও কথা বলছি না। এর পিছনে আমার একটা দুইটা না বরং ৩২ টি গুটির উপর ভিত্তি করে ৯ রকম লজিক, গুটির মুভমেন্টের উপর ভিত্তি করে ৮ রকম লজিক, সময় এবং গুটি কয়েক গুটির উপর ভালোবাসা ভিত্তি করে আরো ৩ ধরণের লজিক রয়েছে। সেগুলো এখন যদি বর্ণনা করা শুরু করি তাহলে সব লিখতে লিখতে সারা রাত পার হয়ে যাবে। তাই এ বিষয়ে আর কথা এগুতে চাচ্ছি না।
আচ্ছা দাবার বিষয়ে কথা পরে বলি, এখন একটা স্মৃতির কথা বার বার মাথায় আসছে... সে বিষয়ে লিখতে ইচ্ছে করছে...

আমি যখন ক্লাস সেভেনে কুমিল্লা জিলা স্কুলে পড়ি তখন আমার বাসা থেকে ‘সেলিম স্যার’ নামে একজন স্কুল শিক্ষক ঠিক করে আমার মা। সেই স্যারের দ্বায়িত্ব ছিল আমাকে মারতে মারতে অঙ্কের বই গিলানো। তিনি আমাদের বাসায় এসেও পড়াতো, আবার আমিও উনার বাসায় যেতাম পড়তে। দুই জায়গায় পড়তে গেলেও একটা জিনিস দুই জায়গাতেই একইরকম ছিল... আর তা হচ্ছে ‘মাইর’...তবে দুই জায়গায় দুই রকম ভাবে মাইর খেতাম আমি। স্যারের বাসায় মারতো মোটা জালি বেত দিয়ে (সাথে হাতের মাইর থাকতো), আর আমাদের বাসায় মারতো শুধু হাত দিয়ে। তবে মাইর কখনো মিস হতো না। আমি অবশ্য কান্নাকাটি, বা আঃ উঃ করতাম না। যত মাইরই খাই না কেন, মুখ দিয়ে কখনো আওয়াজ করতাম না। আর পাশাপাশি চেষ্টা করতাম যথাসম্ভব কান্না চেপে রাখার জন্য।

আপনাদের একটা জিনিস বলে রাখা ভালো, আমি কিন্তু মোটেও দুষ্ট স্বভাবের ছেলে ছিলাম না। আমি সারাদিন বাসাতেই ম্যাচের কাঠি, পিপড়া, ভাঙ্গা যন্ত্রপাতি দিয়ে নিজের মতো করে খেলতাম, কাউকে কখনো বিরক্ত করতাম না। মায়ের কাছে কাছে কখনোই টাকা চাইতাম না... চিপস কিনবা চকলেট খাওয়ার জন্য। আমাকে স্কুলে যাওয়া আসার জন্য ২০ টাকা দিত, আমি স্কুলে হেটে হেটে যেয়ে ১০ টাকা করে প্রতিদিন জমাতাম। এভাবে ২ তিন মাস জমানোর পর আমার মা আমাকে বলতেন, “টাকা পয়সা ছেলেমেয়েদের হাতে দেওয়া ঠিক না”, এই কথা বলে উনি সব টাকা নিয়ে যেতেন, তারপর ঐ টাকা থেকে দুই তিনটা চিপস আর কিছু চকলেট কিনে দিয়ে বাকি টাকা নিজের কাছে রেখে দিতেন। আর আমি তাতেই খুব খুশী হতাম। একসাথে তিন চারটা চিপস আর চকলেট তো খাইনি কোনোদিন, তাই আরকি।

আবার আমার কিন্তু কোনো বন্ধুও ছিল না। কারণ আমাকে আমার মা স্কুল বাদে কখনোই ১ মিনিটের জন্য বাহিরে থাকতে দেয়নি বা কারো সাথে মিশতে দেই নি। এমনকি বিকেল বেলাতেও বাসাতে থাকতাম... খেলতাম নিজের মতো করে। আর তা নিয়ে আমার কখনোই কোনো ক্ষোভ ছিল না। একটা কুয়োর ব্যাঙ যে কিনা আজীবণ কুয়োর ভিতরেই বাস করেছে, তার জানার কথা না বাহিরের দুনিয়ায় বিকেল বেলা কি হচ্ছে। তার কাছে কুয়াতেই স্বর্গবাস, কুয়াতেই নরকবাস।

আমার শুধু একটাই সমস্যা ছিলো... আর তা হচ্ছে আমি স্কুলের বেশীরভাগ পরিক্ষার বেশিরভাগ বিষয়ে ফেল করতাম। ইসলাম ধর্মে ফেল করতাম আরবী পারতাম না দেখে, সমাজ বিজ্ঞানে ফেল করতাম ইতিহাস জানি না দেখে, বাংলায় ফেল করতাম হাতের লেখা ভালো ছিলো না বলে, ইংলিশে ফেল করতাম বুঝতে সমস্যা হতো দেখে, আর গণিতে ফেল করতাম মাথা মুন্ডু কিছুই বুঝতাম না দেখে... বা বুঝার চেষ্টা করতাম না। আমার মন পরে থাকতো আমার ফেলে আসা শৈশব রাঙ্গামাটিতে, যেখানে ৫ কিমি এর বেশী পাহাড় পর্বতের রাস্তা পাড়ি দিয়ে স্কুল থেকে প্রতিদিন ফিরতাম বাসায়। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ফিরতাম বাসায়.... যেদিন রাঙ্গামাটি ছেড়ে কুমিল্লায় চলে যাচ্ছিলাম, সেদিনও বুঝতে পারিনি যে আমি কি হারাতে যাচ্ছিলাম...

কুমিল্লার ধুলা বালি মাখা সমতল ভূমি আমার মনটাই ভেঙ্গে দিয়েছিল একেবারে ভিতর থেকে... ফেল করতে লাগলাম প্রিতিটি শ্রেণীর প্রতিটি পরিক্ষায়... তাই আমার পিছনে আমার মা মাষ্টার লাগিয়ে রেখেছিল শুধুমাত্র আমাকে পড়া গিলিয়ে দেওয়ার জন্য। তারা বাসায় এসে আমাকে হা করিয়ে পড়া গিলানো শুরু করতো, কেউ গেলাতো আদর করে, কেউ গেলাতো শাসন করে.. এক একজন মাষ্টারের পড়া গিলানো ধরণ ছিলো এক এক রকম। ইসলাম শিক্ষার জন্য যে স্যারের কাছে পড়তাম, তিনি অত্যন্ত আদর করে পড়াতো। ৪ বছর উনার বাসায় যেয়ে পড়েছি কিন্তু তিনি একটা দিনও আমার গায়ে হাত তুলে নাই। আমি মাঝে মাঝে লজ্জা পেতাম ইসলাম শিক্ষায় ফেল করার পড়। ভাবতাম হজুর স্যার কে মুখ দেখাবো কিভাবে...

আর গরু যেভাবে পেটায়, সেলিম স্যার আমাকে সেভাবে মারতো। আমার আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে আত্মভিমান মারাত্বক রকমের ছিলো। হাত দিয়ে কেউ মারলে ইচ্ছে হতো মরে যেতে... তারপরও সেলিম স্যার প্রতিটা দিন আমার ঘাড়ে, মুখে, কানে...মাথায়... ইচ্ছা মতে মেরেছে হাত দিয়ে... কারণে অকারণে... মাঝে মাঝে শুধু শুধু...আস্তে আস্তে সেলিম স্যার আমার কাছে যমের মতো হয়ে গেলো, কিংবা জমের চাইতেই কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশী। সেলিম স্যারের সামনে ভয়ে আমি সোজা হয়ে দাড়াতে পারতাম না, হাটুগুলো ভেঙ্গে দাড়াতাম। এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে একসময় এটা আমার অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল... দাড়াতাম ঠিক একটা লুলার মতো... হাটু থেকে দুই পা ভেঙ্গে... এই জিনিসটা সেলিম স্যার খুব এনজয় করতো। মাঝে মাঝে অন্য স্যারেরা তার বাসায় বেড়াতে আসলে আমাকে বলতো উঠে দাঁড়ানোর জন্য। আমি উঠে দাড়াতাম। তারপর আমাকে তিনি বলতেন একটু দূরে যেয়ে দাঁড়ানোর জন্যে, যাতে করে উনি এবং উনার দর্শকেরা ভালোভাবে দেখতে পারে যে ‘আমি লুলাদের মতো হাটু ভেঙ্গে অদ্ভুতভাবে দাঁড়িয়ে আছি’... আমাকে এই রকম শুধু একবারই নয়... বার বার দাড়াতে হয়েছিল। এবং শুধু স্যারের বাসাতেই নয়... আমাদের নিজ বাসাতেও মাঝে মাঝে এভাবে দাঁড়িয়ে মাঝে মাঝে কিছু দর্শকদেরকে মজা দেওয়া লাগতো। আর বেশীরভাগ সময় দর্শকদের মডারেটদের ভূমিকা আমার ‘মা’ পালন করতো। তিনি সেলিম স্যারকে অনুরোধ করতো, আমাকে দাড়াতে বলার জন্য। সেলিম স্যারও আমাকে দাড়াতে বলতো, আমিও দাঁড়াতাম, আর দর্শক সারির সবাই তা এনজয় করতো। এমনকি আমার মা ও !!!

সেলিম স্যারের মাইর দেওয়ার পছন্দের জায়গা ছিল ‘আমার মাথা’, আমার মাথায় তিনি একটু পর পর শুধু থাপ্পড় দিতো, পাশে দেয়াল থাকলে দেয়ালের সাথে বাড়ি লাগতো মাঝে মাঝে......................................................


আমি কয়দিন আগে স্নাতক পাশ করেছি। অনেকদিন হয়েছে কোনো স্যারদের হাতেও মার খাই না। কিন্তু এখনো যদি কেউ আমার মাথায় আদর করে হাত রাখে, আমার পুরো শরীর কেপে উঠে এক অজানা কারণে। ইচ্ছে করে যে হাত রেখেছে, তার হাত দুটো ভেঙ্গে ফেলতে...

আমি হয়তো কখনোই সেলিম স্যারকে আমার মাথা হতে তাড়াতে পারবো না। আমার হারানো শৈশবে যে বিষ আমার মা আর সেলিম স্যার আমার মাথায় গেঁথে দিয়েছে, সেই বিষ নিয়েই হয়তো আমাকে শেষ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে হবে...
এখনো আমার মাঝে মাঝে মাঝ রাতে চিৎকার করে করে ঘুম ভেঙ্গে যায়। আমার বন্ধু রিজভী তখন আমাকে শান্ত করে আমার ভুল ভাঙ্গায় যে, আমি আমার স্বপ্নের মধ্যে ছিলাম... বাস্তবে না... আমিও আবার ঘুমের মধ্যে ঘুমিয়ে যাই। সে ও বুঝতে পারে এগুলা হচ্ছে আমার দুঃস্বপ্ন...কিন্তু সে বুঝতে পারে না আমি আমার স্বপ্নে কি দেখিছি... কেউ ই কখনো পারবে না... নিজের দুঃস্বপ্ন নিজেকেই আজীবণ লালন করতে হয়।
কিন্তু আমাকে বুঝতে হয় কে কিরকম। তাই আমিও মনে মনে ছক কেটে দাবা খেলি সবার সাথে... আমার পরিবারের লোকজনদের সাথে, আমার বন্ধুদের সাথে, বা আমার অফিসের কলিগদের সাথে। আমাকে বুঝতে হয় কেউ কি আবার সেলিম স্যারের মতো আমার ঘাড়ে অদৃশ্যভাবে থাপ্পড় দিয়ে আমাকে লুলা বানিয়ে দর্শকদের কাছ কাছ থেকে হাত তালি নিচ্ছে নাকি।  মাঝে মাঝে মনে হয় থাক করুক, হোক মাঝে মাঝে তার সেলিম স্যার। সেলিম স্যার হউয়ার মাঝেও আলাদা একটা পাশবিক মজা আছে। আমিও তো করি, আমিও তো হই...মাঝে মাঝে একজন ‘সেলিম স্যার’।

Thursday, April 18, 2013

সাপ্তাহিক কচড়া (জগা-খিচুড়ী)




বৃহস্পতিবার, ১১ই এপ্রিল ২০১৩

গত সপ্তাহের শেষ দিন ছিল আমার জীবণের অন্যতম একটি সেরা দিনসেদিন আমি পেয়েছিলাম আমার গুরু, মামা, এমিনেমের ২৯৮ টি গানের সম্পূর্ণ কালেকশন। ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা ভাঙ্গাচোরা আধা ছাধা গান বা ৫০ টাকা দিয়া কিনা ডিভিডি ভার্সান না, একেবারে অরিজিনাল সাউন্ডট্রেক ... নতুন অনেক কিছু আবিষ্কার করলাম সেদিন। যেমন প্রতিটি এলভ্যামের শুরুতে এবং শেষে এমিনেমের ৩০-৬০ সেকেন্ডের কিছু ইন্ট্রডাকটোরি ক্লিপ রয়েছে, যেখানে সে আর তার গ্রুপের সদস্যরা এলভ্যাম সম্পর্কে কিছু কথা বলে থাকে। যা একথায় অসাধারণ। তার when the music stops, Evil deeds, Music box, No apologies, Business গানগুলাই সপ্তাহ জুড়ে শুনেছি। বাকিগুলো এখনো শোনাই হয় নাই। তাই জানি না ওগুলা না জানি আরো কত ভালো হবে !!!
...................................................................................................
শুক্রবার, ১২ই এপ্রিল ২০১৩


তন্দ্রার পোট্রেট আকা শুরু করেছিলাম গত সপ্তাহে সোম কি বুধবারে, আর তার কাজ ৯০ ভাগ শেষ করেছি শুক্রবারে। এখন শুধু তার চোখগুলো আঁকা বাকিপোট্রেট এর কনসেপ্ট সম্পূর্ণ কল্পনা থেকে করা। পোট্ট্রেটে সে ফুলের ঝুড়ি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে হাস্যজ্জল মুখে। চুলগুলো এলোমেলো... একেবারেই আইনেস্টাইনের মতো... তবে চোখগুলো আঁকতে পারছি না আমি... যতবারই আঁকতে যাই বার বার আমার চোখ দুটোই ভিজে যায় অজানা এক কারণে। তাই চোখ দুটো আঁকার কাজ এখন আপাতত রেখে দিয়েছি ভবিষৎ এর জন্য। যেদিন আমার চোখের এই ব্যারাম ভালো হবে সেদিন বাকি ১০ ভাগ কাজ শেষ করবো।
...................................................................................................
শনিবার, ১৩ই এপ্রিল ২০১৩

সপ্তাহের প্রথম দিনটি শুরু হয়েছিল খারাপ লাগার মতো একটা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে, অফিসে বসে কাজ করছিলাম... হঠাৎ করে কোনো একটা সোর্স থেকে তন্দ্রার বিয়ের একটা ছবি দেখে চমকে উঠলাম। দেখার পর আমি আর সেদিন অফিস করতে পারিনি। মাথাটা একদম শূন্য হয়ে গিয়েছিল কয়েক ঘন্টার জন্য। ঠিকভাবে রাস্তা দিয়ে হাটতে পারছিলাম না। কিভাবে যে আমি বাসায় এসেছিলাম সেদিন তা ও হয়তো আমি ঠিকভাবে বলতে পারবো না। আমি ঠিক তখনই বুঝেছিলাম, আমি হেরে গিয়েছে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার কাছে। সেই সমাজ ব্যবস্থার কাছে, যেখানে একজন মানুষের রক্ত আরকেজনের মতো হলেও তারা একে অপরের থেকে আলাদা। আলাদা জাতি, আলাদা গোষ্ঠির এক একটি প্রতিনিধি। নিজেকে সেদিন খুব নগন্য মনে হচ্ছিল, ঠিক যেন দুই টাকার ময়লা নোটের মতো... যার দাম আমাদের কাছে থেকেও নেই।
.............................................................................................................................
ভাই থামেন
http://www.somewhereinblog.net/blog/orijit/29818487


কিছু কিছু কথা মুখে বলতে হয় না, দেখায়া দিতে হয়। যাদের মাথায় গোবর আছে তাঁরা ঐ জিনিস দেখার পর না বুঝলেও যাদের মাথায় সামান্য পরিমাণ গরুর মুত আছে, তাঁরা হয়তো কিছুটা বুঝবে। আমার আজকের অ আ তাদের জন্যই। আরো বিশেষ ভাবে বলতে গেলে আমার পরিচিতজনদের জন্য। আমি জানি আমার বেশীরভার পরিচিতজনেরা আমাকে খুব একটা ভালো চোখে দেখে না। কারণ আমার মুখ অনেক পাতলা, বিশেষ করে কখন কোথায় কি বলা উচিত আর কি বলা উচিত না, তারা তা নিয়ে সব সময়ই একটা আতঙ্কের ভিতরে থাকে। তাই আমি তাদের আতংকিত না করার জন্য তাদের কোনো কিছুতেই হস্তক্ষেপ করি না অনেকদিন ধরেই। কি দরকার শুধু শুধু আগ বাড়িয়ে বলতে যাওয়ার !! তাই আমিও আমার মতো থাকি, আর তারাও তাদের মতো থাকে।

আমার খারাপ লাগে না, যখন দেখি মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্ররা আন্দোলন করছে ধর্মের দোহায় দিয়ে। আমার খারাপ লাগে না, যখন দেখি কোনো বয়ষ্ক ব্যাক্তি ইন্টারনেট নামক জিনিসটাকে নিয়ে না জেনে শুনে খারাপ খারাপ মন্তব্য করছে। আমার খারাপ লাগে না, যখন দেখি চোখ বন্ধ করে মানুষরা দলে দলে যোগ দিচ্ছে নাস্তিকদের ফাঁসির দাবিতে। খারাপ লাগে না, কারণ তারা জানে না নেট কি, ব্লগ কি, ব্লগার কি, তারা এসব জানার সুযোগও কখনো পাইনি। তাই তাদের কোনো কিছুতে আমার খারাপ লাগে না। বরং করুণা হয় এই ভেবে যে, তাঁরা কতটা সহজ সরল যে ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে তাদেরকে যে কেউ ব্যবহার করতে পারবে। এসব ভেবে আমি তখন আর মন খারাপ করি না।

খারাপ লাগে তখন, যখন দেখি আমার পরিচিত শিক্ষিত মানুষরা সপ্তাহে এক বেলা, বা ৩-৪ সপ্তাহে একবেলা নামাজ কায়েম করে নাস্তিক, আস্তিক, ধর্মের অবমাননা নিয়ে বয়ান ছাড়ে। খারাপ লাগে তখন, যখন দেখি I-phone, yo-yo, টাইপের পার্টি সার্টি টাইপের পরিচিতরা নাস্তিকদের (ওঁদের ভাষ্যমতে) লিষ্ট করা ছবিতে ফাঁসীর দাবিতে ফেইসবুকে ছবি পোষ্ট করে। তখন তাদের বলতে ইচ্ছে করে এতো বছরের এই শিক্ষাই কি পেয়েছে তাঁরা তাদের পরিবারের কাছ থেকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে, এবং তাদের ধর্মের কাছ থেকে, যে না জেনে শুনে নাস্তিক বলার শাস্তি কি হতে পারে হাশরের ময়দানে তা তাদের জানা নেই !! আজ অত্যাধুনিক ফ্যাশ্যান সচেতন খালেদা জিয়াও ঢালাওভাবে নাস্তিক বলছে আর খাদ্য, বিস্কুট প্রেরণ করছে আন্দোলন কারীদের। তা অবশ্যই প্রসংশনীয়। কিন্তু যাদেরকে প্রেরণ করেছে, তাদের তো একটি দাবী হচ্ছে নারীর অধীনে তাঁরা কোন শাসন মানবে না। তাহলে না মানলে নারী নেতৃতের পরিচালিত দলের কাছ থেকে সাহায্য নেওয়ার পিছনে লজিকটা কোথায় !! আজ এরশাদ চাঁচা পল্টি মেরে খাওয়ার পানি সাপ্লাই দিচ্ছে, দুইদিন আগে দিয়েছিল শাহবাগীদের। কি উদ্দ্যেশ্য তা কি দেশের মানুষ কি কিছুই বুঝে না, তাঁরা কি এতোই বোকা !! আমার তা মনে হয় না।

আমার ধর্ম নিয়ে কখনোই চুলকানি ছিলো না। আমার 'মালাউন' বিরোধী পরিচিতরা (বলতে গেলে সবাই... আমার মা-বাবা থেকে একেবারে কাছের বন্ধুরা পর্যন্ত) যখন অন্য ধর্মের রীতি নীতি নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, হাসা-হাসি করতো তখন আমি চুপ করে থাকতাম। তাঁরা ভাবতো হয়তো আমার সর্ম্পক অন্য একটা ধর্মাবলম্বীর সাথে ছিল বোধহয় আমি কিছু বলি নাই। আমি তাদেরকে বলতে চাই আমার সর্ম্পক গত বছরই ভেঙ্গে গেছে। ছয় বছর আঠার মতো লেগে থাকার পর সে এখন তার নিজ ধর্মের একজনের সাথে বিয়ে করে ভালো আছে। আমি কি চাইলে পারি না তাকে এবং তার ধর্মের নামে সব জায়গায় সমলোচনা করতে ? আমার কি ভিতরে ভিতরে এগুলো চলে না ? চলে ঠিকই, কিন্তু আমি কখনো আংগুল তুলে কারো বিশ্বাসের উপর অযাযিত চর্চা করতে চাই না। আবার যখন ব্লগে দেখতাম ইসলাম কে নিয়ে সমলোচনা করা হচ্ছে, সেখানেও আমি চুপ থাকতাম। কখনোই আগ বাড়িয়ে ক্যাচাল করতে যাইনি আমি। কারণ এত বড় বড় বিষয় আমি আমার ১৩০০ গ্রামের মাথা দিয়ে যাচাই করে উল্টা পাল্টা বক্তব্য দেওয়াটা কে আমি বুদ্ধিমানের কাজ মনে করিনা। বরং বিচার বিশ্লেষণ করে তা নিজের ভিতরেই রাখাটাকেই আমার কাছে সমীচীন বলে আগেও মনে হয়েছিল, এখনো মনে হয়।

আমার পরিচিতরা বিশ্বাস করে আমি আওয়ামীলিগ ঘেষা। আমিও বলছি আমি আওয়ামী লীগ ঘেষা, তার প্রধান কারন হচ্ছে আমি বি.এন.পি কে দুই চোখে দেখতে পারি না। তবে একটা জিনিস বলে রাখা ভালো, আর তা হচ্ছে আমি আওয়ামী লীগকে পছন্দ করি আমার সুবিধার জন্য নয়, বরং আওয়ামী লীগ সামনের বার ক্ষমতায় আসলে আমার এবং আমার পরিবারের জন্যই সব থেকে বেশী ক্ষতি হবে। কেন ক্ষতি হবে এবং কিভাবে ক্ষতি হবে এটা আমার পরিচিতরা খুবই ভালো ভাবে জানে। তাই আর তা বলতে চাচ্ছি না। তবে হাফ লেডিস বি.এন.পি কে কখনোই সাপোর্ট করবো না।


.........................................................................................................
শুক্রবার-রবিবার-মঙ্গলবার
এক সংক্ষিপ্ত প্রেমের গল্প

লাইফে ৫ম তম মেয়ে আমার জীবণে আসল এই সপ্তাহে। তবে সবাইকে গার্লফ্রেন্ডের কাতারে ফেলানোটা উচিত হবে না। এদের মধ্যে থেকে বড়জোড় তিনজনকে আপনারা চাইলে গার্লফ্রেন্ড এর কাতারে ফালাতে চাইলেও ফালাতে পারেন। সর্বশেষ যে এই সপ্তাহে এসেছিল তার সাথে আমার সর্ম্পক ছিল তিনদিনেরপ্রথমদিন চ্যাটে পরিচয়, দ্বিতীয় দিন ফোনে কথা- তুই তুকারি সর্ম্পক- বিয়ের প্ল্যান, বিয়ের পর কক্সবাজার না রাঙ্গামাটি তা নিয়ে খুনসুটি, তৃতীয় দিনে কম খরচে কথা বলার জন্য একই ক্যারিয়ার সিমে কথোপকথন এবং সবিশেষে সর্ম্পকের সমাপ্তি ঘোষণা।

মেয়েটার প্রথমদিনের প্রথমভাগের চ্যাটে আমাকে লিখেছিল

excuse me!
r u bg?
আমি তার এক ঘন্টা পর রিপ্লাই দিয়েছিলাম,
nope... Today I am free, free like a bird ... you can knock me anytime you want...
জবাবে লিখেছিল সে,
tht's nice!!!!
u r free lyk bird,
thn fly freely in the sky,fly away frm all the cruel realities n,,,,,,,,,,,,enjoy urself.
nywy,i did go through ur prfle n i jst love it.
u r diffirent frm others,n smtimes spcl one too..

আমাকে প্রথমে সে বলেছিল আমি স্পেশাল, তারপর চ্যাটের একটা পর্যায়ে এসে সে বলল আমি নাকি ‘Extra Ordinary’তারপর চ্যাটের শেষাংশে এসে সে বলল,
i think u r sick in mentally.

তারপর সে নিজেই পাখি হয়ে উড়ে গেল আমার আকাশ থেকে, ঠিক যেভাবে এসে বসেছিল আমার জীবণের বারান্দায়। যাক উড়ে যাক সব পাখ-পাখালি, আমি একা আছি ভালই আছি। কোনো প্রকার উটকো ঝামেলা পোহানোর ইচ্ছাই আমার এখন আর নাই।
…………………………………………………………………………………………………………………………………………………
Facebook Addiction

ফেইসবুকে আবিষ্কার করলাম, আমার এক পরিচিত মারাত্মক ভাবে আসক্ত হয়ে গিয়েছে ফেইসবুকের সাথে। প্রিতিদিনই ভাব গম্ভীর কিছু না কিছু পোষ্ট দিচ্ছে। ভাব গম্ভীর বিষয় নিয়ে আমি নিজেও বেশ পছন্দ করি। তাই তার করা বেশিরভাগ পোষ্টই আমার ভালো লাগে। ছেলেটাকেও ভালো লাগে আমার। তবে সমস্যা হচ্ছে অন্য যায়গায়। আর তা হচ্ছে, সে মারাত্মক ভাবে ফেইসবুক মেনিয়া তে ভুগছে। আমি তা ধরতে পেরেছি গতকাল। গতকাল ওর করা একটা পোষ্ট আমার ভালো লেগেছিল, কিন্তু শেষের দিকে এসে আর ভালো লাগলো না। তাই আর লাইক দেইনি। তবে তার পোষ্টের একটা কমেন্ট আমার বেশ পছন্দ হয়ছিল বলে লাইক দিয়েছিলাম। তারপর সকালে উঠে আবিষ্কার করলাম সে আমার পোষ্ট করা অনেকগুলো পোষ্টের কমেন্টে লাইক দিয়েছে। আমি বুঝতে পারলাম সে আমার উপর হয়তো কিছুটা বিরক্ত হয়েছে বা রাগ করেছে। আমারও একটু খারাপ লেগেছে কিন্ত আমার যদি ওর পোষ্ট পছন্দ না হয় তাহলে কেন আমি লাইক দিব ? আর ওই পোষ্টের কোনো কমেন্ট যদি আমার পছন্দ হয়, তাহলে কেন আমি ঐ কমেন্টে লাইক দিবো না ? আর লাইক জিনিসটাই বা এতো কি মূল্য রাখে আমি জানি না।

লাইকের পিছনে তার বাসনা দেইক্ষা কষ্ট পাইলাম কিছুটা।
.........................................................................................................


আমি গত ৬ বছর ধরে আমার নিজেস্ব পিসি ছাড়া আছি। তারপরও জুন মাসে চালু করতে যাচ্ছি সর্ম্পূণ নিজের একক প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা একটা পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট। সাইটের জন্য অলরেডি ৬৭ জিবি নেটে আপলোড করা হয়ে গিয়েছে। আশা করি মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ২৫০-৩০০ জিবির কনটেন্ট রেডি করা হয়ে যাবে। তারপর আসবে জুন মাসের সেই বহূ প্রতিক্ষিত দিনটি... যার জন্য আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল দীর্ঘ সাড়ে চারটি বছর!!!
 .........................................................................................................
.........................................................................................................

Thursday, April 11, 2013

একখন্ড পোড়া স্মৃতি...



একটা মটোরসাইকেল এর দাম কত হবে, ৭০ হাজার ? ১.৫ লাখ ? ২.৩ লাখ ? সর্বোচ্চ ৩ লাখ ?

তাই না ?

এখন আমাকে বলেন একগুচ্ছ স্মৃতির দাম কত হতে পারে ?
যে স্মৃতিতে থাকতে পারে প্রথম মটোরসাইকেল কিনার দিনটির কথা... বয়ষ্ক মাকে যেদিন জোড় করে হোন্ডায় চড়িয়ে ৫ গজের মতো চালাতে পেরেছিল আবদুল মতিন। আর তা দেখে তার ভাই বোনদের সে কি হাসা হাসি...

বা সেই স্মৃতিটির কথা যেদিন সে প্রথমবারের মতো হোন্ডার পিছনে চড়িয়েছিল তার জীবনসঙ্গিনীকে। লু বাতাসের উড়ন্ত এলোমেলো চুলের সেই স্মৃতির দিনটির কথা কি ভোলা যায় ?

বা সেই স্মৃতিটির কথা যেদিন নিজের আদরের আটকিয়ে আটকিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা ছোট্ট মেয়েটিকে হোন্ডায় চড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল কোন এক বৈশাখী মেলাতে। ছোট্ট সেই মেয়েটি হয়তো তার আলতো দুটি হাত দিয়ে চেপে ধরে রেখেছিল তার বাবাকে। আর তার বাবা একনিষ্ঠ ভাবে  ধরে রেখেছিল সেই হোন্ডার দুটি হ্যান্ডেল। চোখের সামনে বড় হয়ে যাওয়া সেই মেয়ে হয়তো গতকাল সকালেও নাস্তার টেবিলে আবদার করেছিল এবারের বৈশাখী মেলাতে নিয়ে যাবার জন্য...

সবই এখন স্মৃতি... একখন্ড পোড়া স্মৃতি...

গতকাল মটরসাইকেলটি নিজের চোখের সামনে পোড়ার সময় হয়তো সেই স্মৃতির দৃশ্যগুলোই  ঝাপসা চোখে বার বার ভেসে আসছিল আবদুল মতিনের... কি কষ্ট... কি কষ্ট...

Tuesday, April 9, 2013

হরতালের দিনগুলোতে একজন সঙ্গী আবশ্যক


হরতালের দিনগুলোতে মেরূল বাড্ডা হইতে কাওরানবাজার সোনারগাঁও মোড় পর্যন্ত সকাল-সন্ধ্যা, আসা-যাওয়ার জন্য একজন সঙ্গী আবশ্যক। সঙ্গীর বয়স, বর্ণ, এবং লিঙ্গ কোন মূখ্য বিষয় নয়, তাই যে কেউ যোগাযোগ করতে পারেন। তবে কাওরানবাজার এলাকার চাকুরিজীবিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। রামপুরা, বনশ্রী এলাকার ব্যক্তিবর্গও চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন।


উল্ল্যেখ্য বিষয়সমূহঃ
১। আসা যাওয়ার ভাড়া ভাগাভাগি করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে রিকশা দিয়ে আসা যাওয়া করলে ৭০ টাকা এর মতো লাগে, এবং সি.এন.জি দিয়ে আসলে ১০০ টাকার মতো লাগে, অর্থাৎ আগ্রহী ব্যাক্তিকে ৩৫ বা ৫০ টাকার মতো ভাড়া দেওয়া লাগতে পারে।

২। হরতাল ব্যাতিত দিনগুলিতে নিজ নিজ উপায়ে আসা যাওয়া করতে হবে।
৩। একসাথে আসতে হলে, একসাথে যেতেই হবে এরকম কোন বিধিনিষেধ নেই। আমার অফিস ৯ টা থেকে, তাই ৮.২০ কি ৮.৩০ হচ্ছে যাওয়ার সময়। আর আসার সময় হচ্ছে   বিকেল ৫ টা থেকে ৭ টার মধ্যে যেকোন সময়।
৪। শুক্রবার আমার অফিস বন্ধ, তাই শুক্রবার অফ ডে হিসেবে বিবেচিত হবে।


আগ্রহী ব্যক্তিগণ যোগাযোগ করতে পারেন নিন্মোক্ত ফেইসবুক লিঙ্কে মেসেজ পাঠিয়ে।

লিনক:
http://www.facebook.com/Sabbirahmed069
ইমেলঃ trivokal@gmail.com

বিঃদ্রঃ গত ৩০ দিনে ২০ দিনের মতো সি.এন.জি দিয়ে আসা যাওয়া করতে করতে আমার এখন বেহাল অবস্থা। তাই আগ্রহী ব্যক্তিগণ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিলে খুশী হবো। খুব প্যারার মইধ্যে আছি।

Monday, April 1, 2013

সাম্প্রতিক দাঙ্গা কিভাবে বাধছে ডিজিটাল বাংলাদেশে তার একটা নমুনা (১৮+)



আজ সকালে অফিসে এসেই দেখি, আমার পরিচিত একজন প্রিয় ব্লগার তার ফেইসবুকে একটা ছবি শেয়ার করেছে  অন্য আরেকটি পেজের। ছবিটি সত্যই অত্যন্ত নৃশংস। যে ই দেখবে তারই মাথায় চট করে রক্ত ঊঠে যাবে। ইচ্ছে করবে যে এই কাজটি করেছে তাকে গুলি করে মেরে ফেলি। তাকে না পেলে তার পরিবারের কাউকে। তার পরিবারের কাউকে না পেলে তার বংশের কাউকে। তার বংশের কাউকে না পেলে তার পুরো গোষ্ঠির কাউকে। আর সবশেষে তার পুরো গোষ্ঠির কাউকে না পেলে তার ধর্মের কাউকে... তবে মারতে কাউকে হবেই...  এবার ছবিটা দেখুন আপনি একবার...


আর এই হচ্ছে সেই পেজের লিঙ্কঃ  (আমি কমেন্ট করার পর পেজটি মুছে ফেলা হয়েছে)


কি ইচ্ছে করছে না এই মুসলমান বাচ্চাগুলোকে যে মেরেছে তার প্রতিশোধ নিয়ে ফেলি এখনই... দেখুন তো আশপাশে খুজে পান কিনা কোন মন্দির বা বোদ্ধ মন্দির... না পেলে খুজে বের করুন একজন বোদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে। যার উপর হামলা করে এই নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচার পাওয়া যাবে।

কি প্রস্তুত হয়েছেন তো লাঠি সোঠা নিয়ে ?

হামলা করবার আগে একবার কি ঘুরে আসা যাবে নিচের লিঙ্ক থেকে?


আরো কিছু ছবি









দেখুন তো চিনতে পারেন কিনা আগের ছবির মাসুম বাচ্চাগুলোর মুখগুলোকে... চিনতে পেরেছেন ?


ওরা ছিল শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু তামিলআদিবাসীদের কিছু মানুষ যাদেরকে আজ থেকে আরো ৩ বছর আগে ২০০৯ সালে হত্যা করা হয়েছিল গৃহযুদ্ধের সময়। যা হয়তো আমাদের সাথেও হতে পারে, যদি কিনা এই ধরনের উল্টা-পাল্টা ভুয়া নিউজে দেশের মানুষকে উত্তেজিত করে তোলা যায়।

তাহলে নিশ্চয়ই এখন আর আগের মতো মাথাটা গরম হচ্ছে না, তাই না ? কারণ ওরা তো মুসলমানের বাচ্চা না। আর যেহেতু মুসলমানের বাচ্চা না, তাহলে ওরা তো মানুষের কাতারে পরে না। তাই না ?
এখন আপনি আমাকে বলেন, আপনি কি পরেন তথাকথিত সেই ‘মানুষের কাতারে’ ?
আপনার ধর্ম কি আপনাকে এই শিক্ষা দিয়েছে যে, একটা বিষয়ে ভালোভাবে না জেনে অন্যের উপর দোষ আরোপ করে নিরীহ মানুষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে, উষ্কানীমূলক পোষ্ট দিয়ে, যুলুম করে ঘর বাড়ি সব ভেঙ্গে দেওয়া ?

আপনার এতোদিনের অর্জিত শিক্ষা থেকে কি আপনি এতোটুকুও শিখেন নি যে কিভাবে একটা সোর্স এর তথ্য সঠিক না ভুল তা যাচাই করে দেখা যায়। ফেইসবুক, ব্লগ, তুরাগ বাস, আর ৬ নাম্বার বাসে তো ধুপ ধাপ করে অনেক কথাই বলে ফেলেন। একবারও কি ভেবে দেখতে ইচ্ছে করে না, যে কথা গুলো বলেছেন তা আদো সত্য কিনা ?

আপনার একটা ভুল কথার জন্য ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যেতে পারে একটা পরিবারের স্বপ্ন। তাই না জেনে শোনে একটা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে দেওয়া কি ঠিক হচ্ছে ?


Saturday, March 30, 2013

এই চিঠিটা আমি দেখতে পেয়েছিলাম একটু আগে ফেইসবুকের একটি ফ্যানপেজে। ফ্যানপেজের নাম উল্ল্যখ করে তাদের প্রমোশন বাড়াতে চাচ্ছি না। তাই নাম উল্ল্যখ করলাম নাম। চিঠিটার একটা কপি আপনাদের দেখাচ্ছি। কিভাবে নিবেন তা আপনার বিষয়। কিন্তু আমি কিছু কথা বলতে চাই এবং তা হয়তোবা চিঠিটার মতোই আপনাদের কাছে হাস্যকর ঠেকাবে। তারপরও লিখছি, মনটাকে হালকা করার জন্য...


আমি এই পোষ্ট টা শেয়ার করছি ফান হিসেবে ধরে নয়, বরং আমার ছবিটা ভালো লেগেছে দেখে পোষ্ট করেছি। আমি জানি না চিঠিটা ফাজলামি করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করে লেখা হয়েছে কিনা। যদি তা না করা হয়ে থাকে, তাহলে আমি এই চিঠির প্রাপক এবং গ্রাহক উভয়কেই স্যালুট জানাচ্ছি। আপনারা অনেকেই হয়তো যতটা না মজা নিয়ে হাসাহাসি করে চিঠিটার মজা নিচ্ছেন, ঠিক তাঁর বিপরীতে শতগুণ মমতা দিয়ে হয়তো চিঠিটা লেখা হয়েছিল। সেই মমতার ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রাংশের ভাগ হয়তো আপনারা না পেলেও ওই চিঠির গ্রাহকটি ঠিকই পেয়েছে। হতে পারে চিঠিটির গ্রাহক এবং প্রাপক হত দরিদ্র ঘরের একজন মানুষ। হয়তোবা চিঠিটার প্রাপক একজন দিনমজুর, যে কিনা তাঁর সারাটা দিনের পরিশ্রম শেষে যখন তাঁর ময়লা বিছানার চাদর এবং তেল চিটচিঠে বালিসে মাথাটা রেখে গ্রামের বাড়িতে যাবার প্রহর গুনে তখন শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরে রাখে সেই চিঠিটা। ক্লান্ত... শ্রান্ত দেহে ঘুমনোর আগেই স্বপ্ন দেখতে থাকে তাঁর প্রিয়জনকে নিয়ে। হয়তোবা সে তখন তাঁর অশ্রুমিশ্রিত ঝাপশা চোখে স্পষ্টভাবে দেখতে পায় তাঁর প্রিয়জনের কাঙ্ঘিত মুখটি... যে মুখটি হয়তো সে ধরতে চাইলেও অনেকদিন ধরে ধরতে পারে না... হাতদুটো ধরে বসে থাকতে পারে না। তাই অদ্ভুত একটা শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে চিঠিতে লেখা অক্ষর গুলোতে। প্রতিটা অক্ষর হয়তোবা তখন তাঁর ছুয়ে দেখতে ইচ্ছে করে। অক্ষরগুলোকেই হয়তোবা তখন তাঁর কাছে তাঁর প্রিয়জনের হাতের আঙ্গুল বলেই মনে হয় যে আংগুলোতে কিনা সে এখনো তুলে দিতে পারে নাই নতুন একটা জামা... বা তাঁর নিজের জন্য একটা...

 দীর্ঘদিনের জমাটবাধা একটা কষ্ট নিয়ে হয়তোবা সে ঘুমিয়ে পরে একটা সময় এসে...

.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।

কি হাস্যকর একটা অনূভুতি... তাই না ?